বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে বন্যাদুর্গত দেড় সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম। রবিবার দিনব্যাপী ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ও আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। এর আগে ১৭ জুলাই জামালগঞ্জ উত্তর এবং বেহেলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ভীমখালী ইউনিয়নে বন্যা বিপর্যস্তদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। এছাড়া বানভাসী শিশুদের মাঝে বিস্কুটের প্যাকেটও বিতরণ করেন তিনি। তাঁর এই ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণকালে দেখা যায়, ত্রাণের খবর পেয়ে হন্যে হয়ে ছুটে আসছে বন্যা কবলিত মানুষ। চাল, চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের প্যাকেট পেয়ে দুর্গতদের চোখে-মুখে তুষ্টির ভাব ফুটে উঠেছে। বন্যায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এসব মানুষ একটু সাহায্য সহযোগিতা পেতে কতটা উন্মুখ তা তাদের বিবর্ণ চেহারায় স্পষ্টত জানিয়ে দিচ্ছে। তবে এ ত্রাণ তৎপরতায় যতটা না খুশি হয়েছেন তার চেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করছেন বানের পানিতে ভাসা হাওর পারের এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা যায়, তিনদফা বন্যার ক্ষত এখনও সেরে উঠতে পারছে না উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে উপজেলার বড় দুই হাওর হালি ও পাগনা পারের মানুষেরা বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে তারা এখনও ভাসমান অবস্থায় দিন পার করছে। ঢেউ আর আফালে বিপন্ন হয়ে পড়ে তাদের জীবন। এবারের তিন তিনবারের বন্যা হাওরবাসীকে আশ্রয় ও কর্মহীন করে তুলেছে। বন্যাগ্রস্ত অনেক পরিবার আছে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিলেও অধিকাংশ পরিবার এই বন্যার পানিতে গরু-বাছুর নিয়ে বসতভিটা আকড়ে ধরে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম দিনাতিপাত করছেন। বন্যায় ভেসে যাওয়া এসব মানুষের সাহায্যে সরকারের তরফ থেকে যে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সেই অপ্রতুলতার কথা চিন্তা করে বানভাসীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন রেজাউল করিম শামীম।
রবিবার ১১টায় নৌকাযোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ সময় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সেলিমগঞ্জ বাজার, ভুইত্থারপুর, শরীফপুর, কালাগুজা, সৈয়দনগর, সুজাতপুর, হাকিমপুর, কাশিপুর, লক্ষ্মীপুর, ছয়হারা, মাতারগাঁও গ্রামসহ খোজারগাঁও বাজার, কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রিত পরিবারের মাঝে ৭শ’ প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে বেহেলী ইউনিয়নের আছানপুর, হিজলা, মদনাকান্দি, দুর্গাপুর, নওয়াপাড়া, মামুদপুর, হরিনাকান্দি, রাধানগর এবং জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কামিনীপুর, ইনচানপুর, হোসেনপুর, মুসলিমপুর ও ভীমখালী ইউনিয়নের বন্যা কবলিত গ্রাম ও আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় হাজার খানেক পরিবারের মাঝে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন রেজাউল করিম শামীম।
ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মিহির সরকার বলেন, ‘এ উপজেলায় একমাত্র রাজনীতিক হিসেবে রেজাউল করিম শামীম বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। করোনা থেকে শুরু করে বর্তমান বন্যায় বিপন্ন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন তিনি। এতে হাওর পারের মানুষ কিছুটা হলেও উপকৃত হচ্ছে। দুর্যোগ কবলিত মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর এই সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছি।’
দুর্গত মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে রেজাউল করিম শামীম বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার বরাবরই দুর্যোগগ্রস্ত মানুষের কথা চিন্তা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে সরকারের একার পক্ষে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। এ জন্য সামর্থবান মানুষকে এগিয়ে আসা দরকার। বিপদগ্রস্ত মানুষের ভরসা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের একজন সৈনিক হিসেবে বানভাসীদের পাশে দাঁড়ানোটা আমার দায়িত্বের অংশ মনে করে ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে এসেছি। যেকোন দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে আমার সাহায্যের হাত বাড়ানো অব্যাহত থাকবে।’


