জামালগঞ্জে ভূট্টা চাষে বিপ্লব/ ১ বছরে চাষ বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ, লাভবান কৃষক

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
চলতি রবি মৌসুমে ধান, বাদাম, মরিচ, সূর্যমূখী, আলু, টমেটোর পাশাপাশি ভুট্টা চাষে লাভবান হয়েছেন জামালগঞ্জের কৃষকেরা। গত বছর উপজেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। এবার চাষ হয়েছে ১৪৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ১ বছরে প্রায় ৪ গুণ বেশি জমিতে ভূট্টা চাষ হয়েছে। ধানের চেয়ে ২ গুণ ফলন হওয়ায় এবং স্বল্প মেয়াদী, ঝুঁকিমুক্ত ও খরচ কম থাকায় ভুট্টা চাষ আগামীতে আরও বাড়বে।
জানা যায়, উপজেলার, রামপুর, জামলাবাজ, মিনি পাকনা, তায়েবনগর সহ ৬টি ইউনিয়নের পতিত জমিতে ভুট্টার চাষ করছে কৃষকেরা। ভুট্টা থেকে পোলন্ট্রি ফিড, মাছ, গবাদীপশুর খাদ্য তৈরী, প্রসাধন সামগ্রী, হরলিক্স, ভোজ্য তৈল, খই, রুটি, বিস্কুটসহ কয়েক প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও ভুট্টার গাছ ও মোচা, জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নে পাকনা হাওরে রামপুর গ্রামের কৃষক রজব আলী, ফজলুল হক, রাসেল, মামুন উল্লাহ জানান, ভূট্টা চাষে খুবই লাভজনক। খরচ কম, ঝুঁকিমুক্ত ও স্বল্প মেয়াদী হওয়ায় আমরা ভুট্টা চাষ করছি। যে সব জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি- আগে সেখানে ধান চাষ করা হতো। ধান চাষে বছরের পর বছর ঝুঁকি থাকে, খরচের সাথে আয় খুবই কম। তাই এসব জমিতে ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষে দ্বিগুণ লাভ হয়ে থাকে। তারা আরও বলেন, পতিত জমি ও হাওরের নদীর চরে ভুট্টা ধানের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়। তাই আমরা ধানের পাশাপাশি ভুট্টা চাষ করছি।
ফেনারবাক ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের আবুল কালাম জানান, গত বছর ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় এবার ১৩০ বিঘা পতিত জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করে ভুট্টা চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। আশা করছি লাভের মুখ দেখতে পাবো। শুধু আমি নই আমার মতো অনেকেই ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত জামালগঞ্জের কৃষকরা অল্প খরচে ভুট্টা চাষে বেশী লাভবান হবে। ভেজালমুক্ত বীজ সার কীটনাশক সহ আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে ও উৎপাদিত ভুট্টা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করলে জামালগঞ্জে ভুট্টা চাষে বিপ্লব ঘটবে।
এ ব্যপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন জানান, ভুট্টা একটি লাভ জনক ফসল। গত বছর এই উপজেলায় ৩৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। এ বছর কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টা যে কোন ধরনের জমিতে চাষ করা যায়। পোকা মাকড়ের আক্রমন কম হয়। পানি সেচ ও প্রয়োজন মতো জৈব সার ব্যবহার করলে ফলন ভাল হয়।
তিনি বলেন, ভুট্টায় একর প্রতি ধানের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়। উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা একর প্রতি ১২০ থেকে ১৪০মন উৎপাদন হয়ে থাকে। দামও ধানের প্রায় কাছাকাছি হয়ে থাকে।