জুয়া খেলার বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

বিশ্বনাথে তীর খেলা নামক অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত তরুণ সমাজের উপর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত পরশু। এর আগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই তীর খেলায় জড়িত থাকার দায়ে বেশ কয়েকজন তরুণের গ্রেফতার হওয়ার খবর ছাপা হয়েছিলো দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। অনলাইনভিত্তিক তীর খেলার জুয়াই শুধু নয়, চলতি বিপিএল নিয়ে তরুণদের জুয়ায় আসক্তির খবরও পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হচ্ছে। এই সব জুয়ার নেশা আমাদের তরুণ সমাজের সর্বনাশের চূড়ান্ত করে ছাড়ছে। কিন্তু অবাক বিষয় হলো সমাজবিধ্বংসী এই অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রতিরোধের জায়গাটি একেবারেই দুর্বল। জুয়া খেলা পৃথিবীর আদিমতম পেশাগুলোর একটি। ইতিহাস ও সাহিত্য এবং পৌরাণিক কাহিনির মধ্যে নানা ধরনের জুয়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়। আদিমতম বহু পেশা আধুনককালে বিবর্জিত হলেও জুয়া নামক এই দুষ্ট প্রপঞ্চটি মহাপ্রতাপে এখনও সমাজদেহে অবস্থান নিয়ে আছে। এটি পৃথিবীর আলোকে গ্রাস করে অন্ধকারে ভরে দিতে চাইছে। জুয়া খেলায় আসক্ত তরুণ সমাজের কারণে আমাদের কতগুলো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রতিদিন কত মা আর বধূর নিরব কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠছে কত তরুণ এর করুণ পরিণতিতে মৃত্যুবরণ করছে এর হিসাব নেই আমাদের কাছে। কিন্তু অনুমান করা একেবারেই সহজ যে, এটি বর্তমান সময়ে আমাদের সামাজিক অপরাধপ্রবণতার অন্যতম অনুষঙ্গ। এটি নিজেই শুধু অপরাধী নয় বরং এটি আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসছে আরও বহু বহু অপরাধকর্মকে। তাই সমাজের বিবেকবান অংশ সদাসর্বদাই এর বিরুদ্ধে কণ্ঠ উচ্চকিত রেখেছেন। কিন্তু ক্ষমতা যাদের হাতে তাদের কোন কর্ণপাত হচ্ছে না বিধায় তিমির ভেদ করে আলোর রেখা দৃশ্যমান হচ্ছে না।
তীর খেলাটি অনলাইনে পরিচালিত হয়। এটির নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র নাকি ভারতের শিলং শহরে। একটি নির্দিষ্ট নাম্বার (১-৯৯) চিহ্নিত করে বাজি ধরে জুয়ারিরা। শিলংয়ে পরিচালিত ওই খেলায় যে সংখ্যাটি দিনের বিজয়ী হিসাবে চিহ্নিত হয় সেই সংখ্যাটি যারা বাজি ধরেছে তারা নাকি বাজির ৭০ গুণ বেশি টাকা পেয়ে থাকেন। অন্যরা যথারীতি আঙুল চুষেই তৃপ্ত থাকেন। বুঝাই যায় জিতনেওয়ালাদের চাইতে হারনেওয়ালাদের সংখ্যা কমপক্ষে ৯৮ গুণ বেশি থাকে। এরকম লোভের আগুনেই পুড়ছি আমরা নিত্যদিন। কথা হচ্ছে এই অনলাইন অপরাধপ্রবণতাটি আমাদের বিটিসিএল কেন বন্ধ করে দিচ্ছে না। তারা তো নানা সাইট কারিগরি প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পারেন। ফেসবুক সাময়িক বন্ধ রাখার কথা জানি আমরা। তাহলে এই তথাকথিত তীর খেলার যে সাইটটি রয়েছে সেটি কেন তারা বন্ধ করছেন না? না এটি তারা জানেন না? জানেন না এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং বিষয়টিকে এড়িয়ে থাকছেন বা এর কুপ্রভাব সম্পর্কে তারা উদাসীন, এইটিই সত্য। এই উদাসীনতা চরমভাবে নিন্দনীয়। আমরা মনে করি উৎসে এটি বন্ধ করা না গেলে দুই/একজন জুয়ারিকে ধরে একে নির্মূল করা সম্ভব হবে না। ঠিক একইভাবে বিপিএল, আইপিএল বা বিভিন্ন খেলাকে উপজীব্য করে যারা জুয়ার একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলে সেটিও নির্মূল করা একটি সুস্থ সমাজের জন্য অপরিহার্য।
সমাজেরও প্রচুর দায়িত্ব রয়েছে। এই অপরাধগুলো প্রকাশ্যেই হচ্ছে। সমাজের দায়িত্ব হলো সর্বত্র এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও প্রতিহত করা। উদাসীন বা নির্লিপ্ত সমাজের পক্ষে ভাল কিছু অর্জন সম্ভব নয় শুধু পিছনে হটা ছাড়া। আমাদের সমাজটি ক্রমশ নির্লিপ্ত ও বোধহীন হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতিকর নির্লিপ্ততা থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ।