মো. আশিক পীর
জেলার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে এই বছর প্রায় ৩৩০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। আগামী অর্থ বছরে কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সড়কে সেতু তৈরির জন্য ২৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১ উপজেলার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের যোগাযোগ সড়কের স্বপ্ন পূরণের কাজ শুরু হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত পলাশ-চিনাকান্দি, লাউড়েরগড় ও মহেষখলা সড়ক। যে সড়কটি ধর্মপাশা উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই সড়কে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ টি সেতু হবে। এগুলো হচ্ছে- কল্যাণপুর খালের উপরে ৫৪ মিটার লম্বা সেতু, লকমাছড়ায় ৫০ মিটার লম্বা সেতু, রঞ্জু ছড়ায় ৩৮ মিটার লম্বা সেতু ও চারাগাঁও ছড়ায় ৩২ মিটার লম্বা সেতু ও কলাগাঁও ছড়ায় ৭৫ মিটার লম্বা সেতু।
এছাড়া সড়ক যোগাযোগের সুবিধার্থে জামালগঞ্জ উপজেলায় রক্তি নদীর উপর সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার লম্বা সেতু, দিরাইয়ের মরা সুরমার উপরে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার সেতু, কালনী নদীর উপরে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ মিটার সেতু, ধল কুতুব নদীর উপরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার সেতু, দাঁড়াইন নদীর উপরে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু।
পাগলা-বীরগাঁও সড়কের বীরগাঁও বাজারের কাছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার, দামুতরতপি- ঘোরাডুম্বুর সড়কে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার, বিশ্বম্ভরপুরে রক্তি নদীর উপর ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার, ছাতকের সিরাজনগরের বটের খালের উপর ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার, গণেশপুর-ইসলামপুর সড়কে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার, কালীপুর-হায়দরপুর সড়কে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু। একটি ৭০ মিটার এবং অপরটি ৪৫ মিটার দীর্ঘ সেতু।
অন্যদিকে, দিরাই উপজেলার পূর্বাঞ্চল এবং জগন্নাথপুর উপজেলার একটি অংশের মানুষের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য দিরাই বাজার পার্শ্ববর্তী কালনী নদীর উপর নির্মিতব্য সেতু থেকে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে জগদল, হোসেনপুর, পাইলকাপন, তেলিকোনা পর্যন্ত ৭ টি সেতুসহ ডাবল লেনের ১৬ কিলোমিটার সড়ক হচ্ছে।
১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাতকের কালীপুর থেকে হায়দারপুর হয়ে কলকলিয়া সড়ক পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক হচ্ছে। অন্যদিকে, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া বোড়াখালি-জগন্নাথপুর ডুবন্ত সড়ককে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ ফুট থেকে ১৬ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। একইভাবে সাচনাবাজার- বেহেলী ডুবন্ত সড়ককে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ ফুট থেকে ১৬ ফুটে প্রশস্ত করা হবে।
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা সড়কের জয়নগর পর্যন্ত বিগত বছরে কাজ হয়েছিল। এই অর্থবছরে জয়নগর থেকে জামালগঞ্জ হয়ে সেলিমগঞ্জ পর্যন্ত বিটুমিনের সড়ক হচ্ছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত সড়কগুলোতে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ টি সেতুর প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য আগামী একনেক সভায় উঠবে। সেগুলো হচ্ছে- তাহিরপুরের জাদুকাটা নদীর উপর ৫৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু, ডাম্পের বাজারের পাশে ১২০ মিটার দীর্ঘ সেতু, বৌলাই নদীর উপর ১২০ মিটার দীর্ঘ সেতু, ধর্মপাশার মধ্যনগর বাজার সংলগ্ন ১৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু, জয়শ্রী বাজার সংলগ্ন ১৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু ও সুখাইড় বাজারের কাছে ১২০ মিটার দীর্ঘ সেতু। ছাতকের আনুজানি বাজারের কাছে ৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু এবং ধলের সরলিডোবা নদীর কাছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ সেতু।
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাড. হুমায়ুন মঞ্জুর বলেন,‘গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, এজন্যই সুনামগঞ্জে এ বছর গ্রামীণ সড়কে কাজ হচ্ছে বেশি। তবে এসব উন্নয়ন প্রকল্প যাতে টেকসই, সুষ্ঠু এবং মানসম্পন্ন হয় এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অফিস, জনপ্রতিনিধিসহ সকলকেই খেয়াল রাখতে হবে’।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বিশেষ বরাদ্দের ২৫ কোটি টাকার সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এছাড়া ছোট-বড় আরো ৭০ কোটি টাকার কাজ, আইআরপি-২ প্রকল্পের ১৩ কোটি টাকায় ১৩ টি সেতু হবে’।
ইকবাল আহমদ বলেন,‘এসব উন্নয়ন কাজ দেখভাল করতে আমাদের প্রধান প্রকৌশলীর কঠিন নজরদারি রয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত চীফ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন জেলায়-উপজেলায় কর্মকর্তারা রয়েছেন। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে দরপপত্র হবে, টেন্ডারবাজিরও সুযোগ নেই’।
- মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করে
- জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার


