অমিত দেব
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও নবগঠিত দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলায় ব্যপক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই উপজেলা সম্ভাবনাময় উপজেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। এ দুটি উপজেলা কিছুদিনের মধ্যে ব্যবসা বাণ্যিজের দিক থেকে একটি সমৃদ্ধ উপজেলায় পরিণত হবে। দারিদ্রতা বিমোচনসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সচেতন সুনামগঞ্জবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথপুর ও দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে গত সাত বছরে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যোগাযোগ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা হিসেবে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কিংবা জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়া ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামীতে এ দুই উপজেলার চেহারা বদলে যাবে।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সংসদ সদস্য হিসেবে এম এ মান্নান অবহেলিত জনপদ জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচী হাতে নেন। প্রথমেই তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের পাশাপাশি পাগলা-সুনামগঞ্জ সড়কের শান্তিগঞ্জ নামক স্থানে সুরম্য উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শেষ করেন।
এছাড়াও জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি- মহাসড়ক প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্ধ থাকা অসমাপ্ত কাজ শুরু করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। শুরুতেই হাতে নেন ১শ ২৭ কোটি টাকা ব্যায়ে রানীগঞ্জ সেতুর কাজ। অচিরেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নের এই সেতুর কাজ। বর্তমানে ফেরী পারাপারের মাধ্যমে সড়কটি চালু করায় রাজধানীর সাথে স্বল্প সময়ে যোগাযোগের পথ উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর প্রচেষ্টায় জগন্নাথপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে জগন্নাথপুরে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণ। দীর্ঘদিনের দাবি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নলজুর সেতু নির্মাণ করে তিন ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা সদরের সাথে সংযুক্ত করেন। এছাড়াও একশ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিবগঞ্জ- বেগমপুর সড়ক ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণ, শাহজালাল মহাবিদ্যালয়কে এমপিওভূক্তকরণসহ ৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ, চারটি নতুন কলেজ সৃষ্টি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১০৯ টি গ্রামীণ সড়কের পাকাকরণ কাজ বাস্তবায়িত হয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা প্রভাষক এনামুল কবিরের মতে, গত সাত বছরের উন্নয়নে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের চেহারা বদলে গেছে দাবী করে বলেন,‘ দক্ষিন সুনামগঞ্জবাসী এম এ মান্নানের কাছে কৃতজ্ঞ’।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বলেন, ‘জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে এদুটি উপজেলায় অমিত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে’।
সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, ‘পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি মহাসড়কটি পুরোপুরি চালু হলে বদলে যাবে জগন্নাথপুর ও দক্ষিন সুনামগঞ্জের চেহারা। ব্যবসা বাণ্যিজের প্রসারে এদুটি উপজেলার পাশাপাশি পুরোজেলাবাসী উপকৃত হবেন।’
ব্রিটেনের বাংলামিরর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল করিম গণি সুনামগঞ্জের খবর কে বলেন, ‘ব্রিটেনে জগন্নাথপুরের অনেক প্রবাসী রয়েছেন, যারা দেশে বিনোয়োগ করতে আগ্রহী। সুনামগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কটি চালু হলেই প্রবাসীরা বিনিয়োগ করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।’
জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকা হিসেবে জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উন্নয়নে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশে কাজ চলছে’।
তিনি বলেন, ‘দেশে যে উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরী হয়েছে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে শুধু জগন্নাথপুর- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নয় পুরো দেশের চিত্র বদলে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বে অপার সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে’।

