বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্তে আরেকটি বড় সিমেন্ট কারখানা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সার কারখানাও তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে সফর করার পর ঐ দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সৌদি আরবের আল রাজি গ্রুপ এমন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ছাতক-দোয়ারাবাজারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে সফরে যাবার পর এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’।
তিনি জানান, সৌদি আল রাজি গ্রুপ ছাতকের বর্তমান সিমেন্ট ফ্যাক্টরী নিতে আগ্রহী। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য। এই সিমেন্ট কোম্পানী ১২’শ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএমআরআই (পূর্ণ সংস্কার) করা হচ্ছে। শীঘ্রই বিএমআরআইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই অবস্থায় এই সিমেন্ট কোম্পানী হস্তান্তর করার চিন্তা করা যায় না।
মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘পরে তারা সিমেন্ট কোম্পানীসহ ৩ টি কোম্পানী করার জন্য ১৫’শ হেক্টর জমি চেয়েছেন। আমরা বলেছি, জমি আমরা দেব। আমার সঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক ছিলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই জমি দোয়ারাবাজারে দেওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেন’।
মুহিবুর রহমান মানিক জানান, ছাতক- দোয়ারাবাজার সীমান্তে এই ধরনের বড় কারখানা করতে কোন সমস্যা নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার এবং বিনিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে ছাতক-দোয়ারাবাজার বা ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকার যে কোন স্থানে এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে তুলা সম্ভব। লাইমস্টোন, চুনাপাথর ও জিপসাম এই সীমান্তে প্রচুর রয়েছে। শত শত বছরেও এগুলো শেষ হবে না। সীমান্তে সিমেন্ট কারখানাসহ কাঁচামাল নির্ভর বড় বড় কারখানা এবং শুল্কবন্দর হলে ভারতের সেভেন সিস্টারস্’র রাজ্যগুলো যেমন উপকৃত হবে তেমনি সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশও উপকৃত হবে। ছাতকের বর্তমান সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটিও ১৯৩৭ সালে যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এটি আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট ফ্যাক্টরী-ই ছিল। এই এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই করতে অনুমতি দিয়েছিলেন আসামের তখনকার রাজ্য সরকার।
তিনি জানান, সৌদি আল রাজি গ্রুপের এই প্রস্তাব অনুযায়ী বিসিআইসির চেয়ারম্যান আগে ছাতক-দোয়ারাবাজারের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করবেন। পরে সৌদি আল রাজি গ্রুপের একটি সমীক্ষা দল এই এলাকা পরিদর্শন করবেন। সংসদ সদস্য মানিক জানান, সৌদি আল রাজি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বিনিয়োগকারীও যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী রয়েছেন।
গত মাসে (জুলাই) দোয়ারাবাজার উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এই সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকসহ সকল ইউপি চেয়ারম্যান সৌদি আল রাজি গ্রুপকে দোয়ারাবাজারে স্বাগত জানিয়ে বলেন,‘দোয়ারাবাজার সীমান্তে শিল্পকারখানা গড়তে যেটুকু জমি সৌদি আল রাজি গ্রুপ চাইবে, সেই টুকই দিতে সম্মত রয়েছি আমরা’।
সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগের জন্যই সৌদি আল রাজি গ্রুপ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়েছে এবং আমরা স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি, এই স্বপ্ন অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে’।


