জেলায় ৯২টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ১৯৩ টি রিপার বরাদ্দ

স্টাফ রিপোর্টার
অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। ধান কাটা এবং ঘরে তোলার মজুর বা শ্রমিক কোথায় পাবেন এ নিয়েই তাদের যত চিন্তা। হাওরের জমিগুলো ভরে গেছে সোনালি ধানে। এরই মধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। পুরোদমে কাটা ও মাড়াই শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যেই। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলার কৃষকদের জন্য ধান কাটার যন্ত্র বরাদ্দ করেছে। কৃষক ও শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকার মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে হাওর এলাকায় ধান কাটার মেশিন পাঠানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় ৯২টি সচল কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ১৯৩ টি রিপার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৭ টি রিপার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১৬ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ১০ টি রিপার, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৩ টি রিপার, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৮ টি রিপার, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১১ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ২৫ টি রিপার, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৫ টি রিপার, তাহিরপুর উপজেলায় ১০ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ২০ টি রিপার, ধর্মপাশা উপজেলায় ৮ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ২৫ টি রিপার, ছাতক উপজেলায় ১৫ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৪২ টি রিপার, দিরাই উপজেলায় ১০ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ২০ টি রিপার, শাল্লা উপজেলায় ৪ টি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও ৩৮ টি রিপার দেয়া হয়েছে। কম্বাইন্ড হারভেষ্টার ও রিপার ব্যবহারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
এবার বোরো ধান ঘরে তোলার সামগ্রিক বিষয় দেখভালের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা যাওয়ার পথে যেন তাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন হাওরে ধান কাটা বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেছে। গণ বিজ্ঞপ্তিতে ধান কাটা কার্যক্রমে স্থানীয় কৃষি শ্রমিকদের অগ্রাধিকার, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে সকল বালু, পাথর কোয়ারী, বারকি শ্রমিক ও ইট ভাটায় নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে ধান কাটায় নিয়োজিত করা, চলমান সংকটের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি চালক, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল রেস্তোরা এবং বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীদের ধার কাটায় নিয়োজিত করা, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, কোন কৃষি শ্রমিক জ¦র, সর্দি, শ^াসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দিলে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, সম্পূর্ণভাবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকা ও অসুস্থতার বিষয় গোপন না রাখা, রাত্রীকালীন অবস্থানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বে শোবার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল, হাই স্কুল, মাদ্রাসা বা কলেজ আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা, কোথাও আশ্রয়কেন্দ্র পাওয়া না গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ত্রাণের তাবু নেয়া, অতিদ্রুত ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ও রিপার মেশিন ভাড়ায় ব্যবহার করা, প্রয়োজনে পাশর্^বর্তী জেলা থেকে চালক সহ কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ভাড়ায় আনার উদ্যোগ, ধান কাটা চলঅকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার যন্ত্র যেমন কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপার, মাড়াই কল সহ অন্যান্য যন্ত্র মেরামতের ওয়ার্কসপ সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। যন্ত্র সমূহের জন্য প্রয়োজনীয় জ¦ালানী তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য তেলের বিক্রয় কেন্দ্র ও দোকান সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ধানকাটায় নিয়োজিত শ্রমিকের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে। ধান কাটার পর বিক্রয়ের জন্য নিকটস্থ হাটবাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তা মার্কিং ব্যবহারের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব যন্ত্রে কেবল দ্রুত ধান মাড়াই, গুদামজাত সহজ ও আগাম বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল থেকে বোরো ধান রক্ষা করাই সম্ভব হবে না; একই সঙ্গে চলমান করোনা দুর্যোগে কৃষি খাতে যে ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তাতেও এক ধাপ এগিয়ে যাব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বোরোর পর আউশ ধানের উৎপাদন বাড়াতে এক লাখ ৯ হাজার ২৬৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার রাসায়নিক সার ও বীজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।