বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ প্রকাশ্যে একে-অপরকে বিষোদগার করছেন। তাতে দলীয় নেতা কর্মীরা যেমন বিব্রত হচ্ছেন এবং অনেকে মনে করছেন আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক বলয় এই বিরোধকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাবে।
গত ৫ জানুয়ারি সরকারের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে সুনামগঞ্জের পাঁচ এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমনকে উদ্দেশ্য করে নুরুল হুদা মুকুট সমালোচনা করেছেন।’ এই সমাবেশ মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানসহ দায়িত্বশীল নেতা কর্মীরা ছিলেন।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ছাত্রলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সরকারের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানকে ইঙ্গিত করে সমালোচনা করেছেন। তিনি সম্প্রতি হয়ে যাওয়া জেলা পরিষদ
নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেছেন। এই সমাবেশ মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনসহ দায়িত্বশীলরা ছিলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা নিজের নাম না ছাপার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,‘আমাদের নেতাদের এমন বক্তব্যে এবং দলীয় বিরোধে আওয়ামী লীগ বিরোধীরা উৎসাহিত হবে। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগেই তারা বলেছিল, ‘এই নির্বাচনে আমাদের উদ্দেশ্য হবে সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগের বিভক্তিকে আরো জোরদার করা, দলে এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ধরে নিতে হবে বিএনপি’র উদ্দেশ্য সফল হয়েছে’।
সংগঠনের বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মী শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রকাশ্যে সমালোচনা দলের জন্য খারাপ হচ্ছে, শত্রুপক্ষ লাভবান হবে’।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নেতাদের ঐক্যবদ্ধ দেখতে চাই, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার মুখে হাসি দেখতে চাই, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে শত্রুপক্ষকে মোকাবেলা করা সহজ হবে’।
আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন বলেন, ‘দলের সকল নেতা কর্মী ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই মুহূর্তে বিভেদ দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে’।
এই বিভক্তি ও বক্তব্য প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জে এম এ মান্নান বক্তব্য রাখার সময় কারো নাম উল্লেখ করেননি। আমি ১৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে নিজের নামে কলেজ করেছি। তিনি বোধহয় সুরঞ্জিত বাবুর কলেজের কথা বলেছেন। আমি ১৯৬৬ থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত ঠিকাদারী করেছি। এখন করি না। উপ-নির্বাচন করে আমি রাজনীতিতে আসিনি। আমি দিরাই-শাল্লায় ৩ বার দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করিনি। জেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধি ভোটারদের সমর্থন নিয়ে নুরুল হুদা মুকুটকে প্রার্থী করা হয়েছে। ওখানেও দলীয় সিদ্ধান্ত বা নেত্রীর সিদ্ধান্ত অমান্য করা হয়নি।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘দলে বিভক্তি সৃষ্টিকারীরা মোস্তাকের অনুসারি। এরা দলকে ব্যবহার করে কালো টাকার পাহাড় গড়েছে। জাতীয় নির্বাচন মাত্র দুই বছর বাকি, এই মুহূর্তে দলীয় এমপি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিষোদগার করে, বিভক্তি বাড়িয়ে, তারা আমাদের নেত্রী-দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ-সৎ-মেধাবী নেতা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি কারো নাম বলে সমালোচনা করেননি। তিনি কেবল বিষোদগারের জবাব দিয়েছেন।’


