জেলায় ৭৯২ ওয়ার্ডে কমিটি গঠন

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত এবং নভেল করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ঘরে ঘরে সচেতনতার বার্ত পৌঁছে দেবার জন্য সুনামগঞ্জে ৭৯২ টি কমিটি গঠন হয়েছে। জেলার ৮৮ ইউনিয়নের ৭৯২ টি ওয়ার্ডে গত দুই দিনে এই কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে জেলার ৮৮ ইউনিয়নেও ৮৮ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, জেলায় গত পহেলা মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে চার হাজারের মতো প্রবাসী এসেছেন। এরমধ্যে সোমবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মেনে ঘরের ভেতরে আছেন ২৯৭ জন। অন্য প্রবাসীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ গ্রামে গঞ্জে নভেল করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য সচেতনতার বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেবার জন্য গত সপ্তাহে জেলার ১১ উপজেলার ৮৮ ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। রোববার ও সোমবার জেলার ৮৮ ইউনিয়নের ৭৯২ টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য করা হয়েছে ৫ জন। এরা হলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী, ইমাম ও শিক্ষক।
জেলার জগন্নাথপুরের প্রবাসী অধ্যুষিত ইউনিয়ন সৈয়দপুর-শাহারপাড়ার চেয়ারম্যান মো. তৈয়ব কামালী জানালেন, তার ইউনিয়নে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫ জনের মতো প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এরা সকলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
এই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ জুবেল মিয়া বললেন, কমিটির চিঠি আজ (সোমবার) হাতে পেয়েছি। আমরা দ্রুতই বৈঠক করে ঠিক করবো। কীভাবে সচেতনতার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায় এই সিদ্ধান্ত নেব। তিনি জানালেন, গত সপ্তাহে দেশে ফেরা দু’জন প্রবাসীকে দুইদিন
আগে বাড়ী গিয়ে তিনি বলে এসেছেন, তারা যেন ঘরের ভেতরেই ১৪ দিন থাকেন।
এই উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে প্রবাসী এসেছেন ৩৩ জন। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম রানা বলেন, গরু ছাগলের বাজার বসা বন্ধ রাখা হয়েছে। দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। ৩৩ প্রবাসী’র অনেকেই বাড়ী’র ঠিকানা পাসপোর্টে উল্লেখ করলেও অনেকেই সিলেট শহরের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। ৬-৭ জন গ্রামের বাড়ীতে আছেন। এরা হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত মানছেন। কারো কারো দেশে ফেরার ১৪ দিন অতিক্রম হয়েছে। তারা সুস্থ্য আছেন।
সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন জানান, দুই হাজার তিন’শ প্রবাসী’র ঠিকানা তারা পেলেও, অনেকের নামের সঙ্গে ঠিকানার মিল নেই। মুঠোফোন নম্বর যেটি দেওয়া আছে, সেটি বন্ধ রয়েছে। একারণে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রবাসীদের সহজে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য ৫ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামীকাল থেকে সক্রিয়ভাবে ওয়ার্ড কমিটি কাজ করবে এবং অনেক বার্তা সহজে গ্রামেও পৌঁছে দেওয়া যাবে।