জেলায় ৯ সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসে মাদক

মোসাইদ রাহাত
প্রতিদিনই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক হচ্ছে মাদক। বছরজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়। সুনামগঞ্জে ইয়াবা, ফেনসিডিলের এতো চাহিদা না থাকলেও রয়েছে ভারতীয় মদ ও গাঁজার চাহিদা। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সহজেই কাটাতারের ফাঁক দিয়ে চলে আসছে মাদক। ভারতীয় মদের মধ্যে অফিসার্স চয়েজ রয়েছে শীর্ষের তালিকায়। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ টি সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত আসছে মাদক।
সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় হতে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি, গামাইরতলা সীমান্ত, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট, লাউড়েরগড় সীমান্ত, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা, বোগলা সীমান্ত, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরা ও নারায়নতলা এবং ছাতক উপজেলার সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে মাদক এসে থাকে। সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু মানুষ কৃষি ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি মাদক চোরাচালান কাজে নিয়োজিত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া তথ্য মতে, জানুয়ারিতে বিদেশি মদ আটক হয়েছে ১৫১ বোতল, গাঁজা ২ কেজি ৪০০ গ্রাম, ইয়াবা ১৫৮ পিস, ফেব্রুয়ারিতে গাঁজা দুই কেজি, ইয়াবা ৪৮৭ পিস, এপ্রিলে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজা, ১১১ বোতল বিদেশি মদ ও ১০৫ পিস ইয়াবা, মে মাসে ২৯৬ বোতল বিদেশি মদ, ৫৫০ পিস ইয়াবা, জুন মাসে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ইয়াবা ২১০ পিস, জুলাইয়ে ২ কেজি ৮৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ২১৯ পিস ইয়বা উদ্ধার করা হয়, তাছাড়া আগস্ট মাসে ১০০ বোতল বিদেশী মদ, ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, সে ইয়াবা ১১০ পিস, বিদেশী মদ ৫৫ বোতল, গাঁজা ১৯ কেজি ২৫০ গ্রাম, অক্টোবর মাসে ইয়াবা ১০২ পিস, গাঁজা ৭ কেজি ৫০০ গ্রাম, নভেম্বর গাঁজা ৩ কেজি ৬০০ গ্রাম, বিদেশী ৬৮ বোতল, ডিসেম্বর মাসে ৯৩ বোতল বিদেশী মদ ও ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা আটক করা হয়েছে।
জেলার শীর্ষ ১০ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ জেলা ও উপজেলায় ছোট-বড় ২ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের নজরদারীতে রয়েছে বলে জানান ওই দপ্তরের দায়িত্বশীলরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের মাধ্যমে ২০১৯ জানুরারি থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩৫ টি মামলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাজেদুর হাসান বলেন, আমাদের তালিকায় শীর্ষ ১০ জন মাদকব্যবসায়ী রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলতে পারছি না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।