বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতাই প্রার্থী থাকবেন। দলীয় সমর্থন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন পেলেও ছাড় দেবেন না জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট। আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন তিনিও। ব্যারিস্টার ইমন আজ (শনিবার) দলীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সালাম ও দোয়া চাওয়ার কাজ সারবেন। নুরুল হুদা মুকুট দলীয় কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে তাঁর সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসায় বসে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করবেন। জেলার ৮৭ ইউনিয়ন, ১১ উপজেলা ও ৪ পৌরসভার ১২৬৫ জন ভোটারের নির্বাচন হলে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী দুই নেতা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী উৎসব এই জেলায় জমে ওঠবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন গত প্রায় ৭ বছর জেলা পরিষদ প্রশাসক ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর উত্তর- বিশ্বম্ভরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন এই আসন জাপাকে ছেড়ে দেওয়ায় দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন ইমন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুর রইছ ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী রফিকা রইছের কনিষ্ট ছেলে ব্যারিস্টার ইমন ছাত্রজীবনে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বার্ষিকী সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছিলেন। গণসংগঠনের রাজনীতিতে এসে ভোটের ময়দানে এই প্রথম বারের মতো নামছেন ব্যারিস্টার ইমন।
একইভাবে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল থেকে এজিএস এবং কর্মজীবনে এসে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক পদে
নির্বাচন করলেও দীর্ঘ সময়ের গণরাজনীতিতে এই প্রথম ভোটের মোকাবিলা করবেন নুরুল হুদা মুকুট। নুরুল হুদা মুকুট সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সেরও সভাপতি ছিলেন। প্রায় ১৯ বছর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
যদিও এই নির্বাচনের ভোটার হিসাবে থাকবেন না সাধারণ ভোটাররা। কিন্তু যারা ভোটার থাকবেন, তাঁদের নির্বাচিত করেছেন সাধারণ ভোটাররাই।
জেলা পরিষদের ভোটাররা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও সমর্থনের কথা চিন্তা করেই ভোট দেবেন তাঁরা।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘ভোট সাধারণের না থাকলেও আমরা সাধারণ ভোটারদেরই প্রতিনিধি। সাধারণ ভোটারদের সমর্থন ও অনুভূতির কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা ভোট দেব’।
সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হবার চেষ্টা করেছিলেন ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও নুরুল হুদা মুকুট। শুক্রবার রাত ১০ টায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে ব্যারিস্টার এম এনামুল কবিরের নাম ঘোষণার পর নুরুল হুদা মুকুটও প্রার্থী হবার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দুইজনই নির্বাচনী প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার ইমন বললেন,‘সকালে (শনিবার সকালে) সিলেট বিভাগের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপিকে সালাম করেছি, দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছি। সুনামগঞ্জের অপর জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন তাকেও ফোনে সালাম দিয়েছি, দোয়া চেয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এবং সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং অ্যাড. শামছুনন্নাহার বেগম শাহানার দোয়া চেয়েছি, সহযোগিতা চেয়েছি। বিকালে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ নেতৃবৃন্দের দোয়া নেবার চেষ্টা করবো। এছাড়া সকাল থেকেই সম্মানীত ভোটারদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে ফোন দিচ্ছি, আমি দুয়েক দিনের মধ্যেই জেলা পরিষদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবো’।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা বলেন,‘জননেত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক হিসাবেই নির্বাচন করবো। আজ (শনিবার) দলীয় কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে বসে কর্মসূচী তৈরি করবো। সুনামগঞ্জ সদরের ২-৩ ইউনিয়নে গণসংযোগ করবো। দলীয় সভাপতি মতিউর রহমানসহ দলের নেতা, কর্মী সমর্থক অনেকেই আমার সঙ্গে প্রকাশ্যে প্রচারণায় থাকবেন’।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন,‘ইমনও আমাকে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। আমি বলেছি তোমাকে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু আমি আগে থেকেই নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে ২-৩ টি প্রচার সভায় অংশ নিয়েছি। আমি সভানেত্রীর পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবো, এর আগে কিছুই করবো না’।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি অ্যাড. আপ্তাব উদ্দিন বলেন,‘সভানেত্রী যে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার কারোরই সুযোগ নেই। প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা তাঁর পক্ষে থেকেই কাজ করবেন’।
- ওবায়দুল কাদের মতিউরকে বললেন নেত্রীর নির্দেশনা না মানলে অ্যাকশনে যাব
- ফিদেল, তোমার মৃত্যু আমাদের চেতনাকে আরও শাণিত করবে


