গতকাল জেলা স্টেডিয়ামে পুলিশ সুপার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখে উপায় ছিল না যে, এখন দেশের একনম্বর খেলা হিসাবে ফুটবলের অবস্থান আর বজায় নেই। স্টেডিয়ামে উপচে পড়া ভিড়, কালোবাজারে বেশি মূল্যে টিকেট বিক্রি, অতিরিক্ত দর্শক সামলাতে পুলিশের তৎপরতা, দর্শক গ্যালারির সীমাহীন উৎসাহ, সমর্থকদের সোল্লাস সমর্থন; কি ছিল না এই ফাইনাল খেলায়? কানায় কানায় ছিল সবকিছু। এই খেলা দেখে বুঝার উপায় ছিল না, সময়টা ষাট, সত্তর এমনকি আশির দশকের নয়। বরং ফুটবলের ওই সোনালী সময়ের চাইতেও দুইদশক এগিয়ে গেছে মহাকাল। এই সময়ে ফুটবলকেন্দ্রীক জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি পালটে গেছে, ক্রিকেট এগিয়ে গেছে অনেক। পৃষ্ঠপোষকতা ও যতœআত্তিতে ফুটবল হয়ে পড়েছে অপাংক্তেয়। পুলিশ সুপার গোল্ডকাপের ফাইনালটিকে সাধারণ মানুষ যেন একটি উপলক্ষ বানিয়ে ফেলেছিল এর জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য। সাধারণ মানুষের মনে যে খেলা বলতে ফুটবলই পুরো জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে, এটি জানান দিতেই তারা এদিন হামলে পড়েছিলেন মাঠে। এই সক্রিয় ফুটবল সমর্থকরা ফুটবলের প্রাণ। এদের কারণে ফুটবল একটি খেলার গ-ি ছাড়িয়ে ব্যাপক মানুষের আবেগের প্রতিমূর্তি হয়ে উঠে। এই পাগলপাড়া দর্শকদের অভিনন্দন। অভিনন্দন জেলা পুলিশ প্রশাসনকে। মানুষকে ক্রিড়া বিনোদনে বেশ কিছু দিন মাতিয়ে রাখার জন্য।
টুর্নামেন্টে অনেকগুলো খেলা হয়েছে। শেষাবধি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ফাইনাল। এইসব খেল্য়া কে জিতেছে আর কে হেরেছে, সেটি বড় কথা নয়। সবচাইতে বড় কথা হলো, এর মধ্য দিয়ে আসলে জিতে গেছে ফুটবল নামক বিশ্বপ্রিয় খেলাটি। এর মধ্য দিয়ে আবারও সকলের মাঝে ফুটবল উন্মাদনা ফিরে এসেছে। নতুন খেলোয়াড় ও সংগঠকরা দেখেছেন এই খেলার এখনও কেমন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। তারা নিশ্চিতভাবেই এমন অবস্থা দেখে উৎসাহিত হবেন। খেলোয়াড়রা যেমন আরও বড় খেলোয়াড় হওয়ার জন্য সচেষ্ট হবেন তেমনি সংগঠকরা তাগিদ অনুভব করবেন একে মাঠে ফিরিয়ে আনার।
জেলার স্টেডিয়ামটি পুরো বছরই শূন্য পড়ে থাকে। অথচ এই স্টেডিয়াম এলাকায় গড়ে উঠেছে সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন ক্রিড়াভবন। জেলার ক্রিড়ার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য রয়েছে বেশ শক্তিশালী কমিটি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এমন সুন্দর অবকাঠামো ও কর্তাব্যক্তিরা থাকা সত্বেও গত কয়েক দশক ধরে এখানে কোন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল লীগের দেখা মিলে নি। অথচ যখন স্টেডিয়ামে ছিল না কোন গ্যালারি, ছিল না ক্রিড়া সংস্থার সুন্দর অফিস, তখন কিন্তু খেলার অভাব ছিল না। অনেকগুলো প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজিত হত এই স্টেডিয়ামে। আজ যখন পুলিশ প্রশাসনের প্রতিযোগিতায় দর্শকের ঢল নামে তখন যদি এই ক্রিড়া উন্নয়নের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়িত্ব খুঁজে নেন এর মধ্য থেকে, তা হলে সকলেই খুশি হবেন।
দেশের তরুণ ও যুব সম্প্রদায়কে যাবতীয় অবক্ষয় থেকে মুক্ত রাখতে শিক্ষার পাশাপাশি ক্রিড়া ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। তরুণ ও যুব সম্প্রদায়কে এইসব চর্চার ভিতরে নিয়ে আসতে হবে। এর মধ্য দিয়ে মাদক, জুয়া, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই আমাদের আহ্বান থাকবে জেলার ক্রিড়া উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি, আসুন জেলা পুলিশের সফল আয়োজনের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে আবারও ফুটবলকে মাঠে ফিরিয়ে আনি।

