বিশেষ প্রতিনিধি
‘কোন সময় যে মাথায় ছাদের আস্তরণ ছুটে পড়ে বিপদে পড়তে হয়, এই চিন্তা সব সময় মাথায় থাকে। দুই তলা ভবনে ১০ টি কক্ষ, বাথরুম ৪ টি, বৃষ্টি আসলে অঝোর ধারায় তিনটি কক্ষে বৃষ্টি পড়ায় ঐ কক্ষগুলো ব্যবহার করা হয় না। ২ টি বাথরুমের ছাদ খসে পড়ায় এগুলোও ব্যবহার হয় না।’ সুনামগঞ্জের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ এভাবেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই অফিস ভবনটির বেহাল অবস্থা। এই ভবনে ঢুকলেই মনে হয় কখন যে মাথায় ছাদের অংশবিশেষ খসে পড়বে। ভবনের সব কয়টি দেয়াল নষ্ট হয়ে গেছে, দেয়ালের আস্তর খসে পড়ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অবসরপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী মনোরঞ্জন তালুকদার জানালেন, ১৭ বছর আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এই ভবনটি নির্মাণ করেছে। এই কয় বছরেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এটি দুঃখজনক।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ বলেন,‘ভবন ড্যামেজের কারণে এবং বৃষ্টি পড়ে ইতিমধ্যে অফিসের দুটি কম্পিউটার বিকল হয়েছে।’ তিনি বলেন,‘বৃষ্টি আসলে এসে দেখতে পারবেন এই ভবনের কী দুরাবস্থা।’
ভবনটির সংস্কার ও মেরামতের জন্য ২৮ লাখ
৯৩ হাজার ৯৭৭ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। দরপত্র আহ্বান শেষে গত আগস্ট মাসে ভবন মেরামতের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনার ঠিকাদার ভুইয়া এন্টারপ্রাইজ এই পর্যন্ত (২৪ অক্টোবর) ভবনের মেরামতের কাজই শুরু করেননি। অফিসের সামনের গাড়ির গ্যারেজের ভিট লেবেলের সামান্য কাজ করেছে ঠিকাদারের লোকজন, অন্য কোন কাজ হয়নি। মঙ্গলবার দুই বার অফিসে গিয়েও ঠিকাদারের কোন লোকজন পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ খান বলেন,‘এই ভবনটি সংস্কার করলেও কয়দিন ব্যবহার করা যাবে এই নিয়ে শঙ্কা আছে। আমরা নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের জন্য এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রাক্কলন তৈরি করে দেবার অনুরোধ করেছি। ভবন মেরামতের ঠিকাদার এখনও কাজ শুরু না করার বিষয়টিও আমরা এলজিইডিকে লিখিত জানাবো। মেরামতের কাজ প্রাক্কলন মোতাবেক হচ্ছে কী-না, সেটি দেখার জন্য আমরা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা বেগম, সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক মোল্লা, সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে দিয়ে কমিটি করে দিয়েছি। এই কমিটি কাজ যাচাই করবেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কী-না নির্ধারণ করবেন।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘আমি সুনামগঞ্জে যোগদানের পর কাজের মান নিয়ে কোথাও আপোস করিনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভবনের ক্ষেত্রেও সেটি হবে না। ভবনটি মেরামত করলে টিকবে কী-না সেটি আমি সরেজমিনে গিয়ে যাচাই করবো। সরকারি কোন অর্থের অপচয় হতে দেওয়া হবে না। ঠিকাদার কাজ শুরু না করলে তাঁর কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।’


