স্টাফ রিপোর্টার
জেলা সম্মেলনকে ঘিরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র বিবদমান দুই গ্রুপ আবারও মুখোমুখি অবস্থানে। আগামী ১৯ নভেম্বর জেলা সম্মেলন করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সংগঠনের একাংশের নেতারা বলেছেন, ‘ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের অবসান না করে জেলা সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না। সাধারণ নেতা কর্মীদের নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে’।
সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং ওয়াকিফুর রহমান গিলমানের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
বিগত সময়ে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১৪ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ল নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও প্রথম সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
সম্প্রতি. সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ১৯ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে জেলা কমিটিকে অবগত করেছে।
সংগঠনের বিক্ষুব্ধ অংশ (স্থানীয়ভাবে সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়ার সমর্থক হিসাবে পরিচিত) জেলা সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ জেনে গত ২৯ অক্টোবর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে
সভা আহ্বান করে। এই অংশের নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাদীর আহমদ দাবী করেছেন ২৯ অক্টোবরের সভায় ৮৭ সদস্যের জেলা কমিটির ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।
নাদীর আহমদ বলেন,‘জেলা কমিটি’র উদ্যোগে করা জেলার ১৪ ইউনিটেই পাল্টা কমিটি হয়েছে। জেলা আহ্বায়ক’এর উপর আমাদের অনাস্থা রয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সনের নিদের্েেশ কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন জীবন আমাদের ডেকে এসব অভিযোগ শুনেছেন। কিন্তু এখনো অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি। আমরা আশা করছি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা অভিযোগের সুরাহা না করে জেলা সম্মেলনের অনুমতি দেবেন না। এরপরও সম্মেলন করার চেষ্টা হলে সাধারণ নেতা কর্মীদের নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে’।
এই অংশের নেতা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন,‘ইউনিটগুলোতে দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও কমিটি হয়েছে এক তরফাভাবে। জেলা বিএনপি’র অফিস করা হয়েছে শহরের বাইরে অনেক দূরের গ্রামে। কমিটি কোথায় কী-হচ্ছে, এটিও নেতা কর্মীদের কাউকেই জানানো হয় না। এই অবস্থায় বিরোধ না মিটিয়ে সম্মেলন করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে’।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘জেলা সম্মেলনের তারিখ আমরা করিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তারিখ নির্ধারণ করেছেন। যারা সম্মেলনের তারিখ জেনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা আগেই এসব অভিযোগ কেন্দ্রে জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ দিলেও পরে এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে। ইউনিট কমিটি গঠনসহ সকল বিষয় নিয়ে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে জেলা সম্মেলন কবে হবে সেই তারিখ নির্ধারণ হবে’।


