ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

পুলক রাজ
করোনাভাইরাসের ভয় উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত শহর সুনামগঞ্জ থেকে কর্মস্থলে ফিরছে হাজারো মানুষ। কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও নিয়ন্ত্রণের সব চেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ করে দিয়ে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন তারা। নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও যেতে হবে কর্মস্থলে, না যেতে পারলে থাকবে না চাকরি। অনেকে আবার নিরাপদে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ছুটি বাড়িয়েছেন। তবে দূরপাল্লার বাস না চলায় বেশী ভাড়া দিয়ে কার, লাইটেসসহ ছোট গাড়ী দিয়ে যাতায়াত করছেন। এছাড়াও অনেকে স্থানে স্থানে গাড়ি বদল করে করে কর্মস্থলে ফিরছেন।
পৌর শহরের নতুন বাসস্টেশনে যাত্রী হায়দার হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি আসছি ঝুঁকি নিয়ে। ঈদের ছুটি রবিবারেই শেষ হয়েছে। কিন্তু আরো ৫ দিনেরও বেশী ছুটি কাটিয়েছি। দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাম মাত্র লকডাউন চলছে। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ২ দিন ঘুরে একটা নোহা গাড়ী জোগার করেছি। বাড়া চেয়েছে অনেক বেশি। চাকুরি বাঁচাতে হলে কর্মস্থলে যেতে হবে। নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাচ্ছি কর্মস্থলে।
সায়েম আহমেদ বলেন, ছোট গাড়ী দিয়ে সিলেট যেতেই ভয় লাগে। কিন্তু চিটাগাং যাবো কি ভাবে। এ নিয়ে মহা মুশকিলে আছি। প্রতিদিনই শোনা যায় রোড এক্সিডেন্টের খবর। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূরপাল্লার বাস চালু করে দেওয়া হলে, এই অসুবিধা থাকতো না।
আপ্তাব উদ্দিন বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে লাইটেসে করে পরিবারের সাথে ঈদ করতে এসেছি। এখন তো ছুটি শেষ। কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছি। কোন দূরপাল্লার গাড়ী নেই। ছোট গাড়ী দিয়ে যেতে হচ্ছে।
লুৎফুর রহমান বলেন, জেলায় বাস চলছে, স্বাস্থবিধি না মেনে সকল সিটেই যাত্রি তোলছে। ভাড়াও ডাবল নিচ্ছে। এ কেমন সিস্টেম।
যাত্রী আরিফুল হক বলেন, ছোট ছোট গাড়ী দিয়ে দূরে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়, ভাড়াও নেয় বেশী। রোড এক্সিডেন্টও হওয়ার আশংকা থাকে। আমি প্রথমে সিলেট যাবো বাসে, তারপর গাড়ী বদল করে করে যাবো। ভাড়াও বেশী লাগবে, কিন্তু কিছু করার নেই। প্রাণ বাঁচিয়ে তো চলতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থবিধি মেনে আমি দূরাপাল্লার বাস চালুর দাবি জানাই।
নূর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার বাবলু মিয়া বলেন, সরকার থেকে বলা হয়েছে-লকডাউন থাকাকালিন বড় বাস চলবে না, আমাদের কোন কিছু করার নেই।
মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে ঠিকই যাতায়াত করছে। ছোট গাড়ি দিয়ে দূরে যাতায়াত করতে দুর্ঘটনার শঙ্খা বেশী থাকে। তবুও যাচ্ছে মানুষ।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন আহমদ বলেন, চলাচলের উপরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। যারা বাড়ি এসেছেন, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসেছিলেন। এখন ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন। কোনটাই ঠিক হচ্ছে না।