ঠিকাদারপ্রথা বাতিলের সাথে আমরা দুর্নীতিরও অবসান চাই

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রথা বাতিলের সরকারি ঘোষণাটি দুঃখজনক বাস্তবতার প্রতিফলন। ব্যাপক দুর্নীতির ফলে উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারীর মতো একটি প্রভাবশালী প্রথা বাতিলের এই উদাহরণটি ভবিষ্যতে এ দেশে উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে কথা সেটি নয়। আসল কথা হলো, যে প্রথায়ই বাঁধ নির্মাণ করা হোক, সেখানে যাতে দুর্নীতির বাঁধটি আটকানো থাকে। আগে বাঁধ নির্মাণ হতো না, না হওয়া বাঁধ দিয়ে পাহাড়ি ঢল কিংবা অতিবৃষ্টির পানি ঢুকত হু হু করে, একই রকম তীব্র বেগে ঢুকত দুর্নীতিও। এবার যখন কর্তৃপক্ষ হুশিয়ার হয়েছেন, প্রথা-পদ্ধতি বদল করেছেন, আমরা আশা করতে চাই দুর্নীতির ¯্রােতটিও যেন বন্ধ থাকে। রাম শ্যাম যদু মধু যে নামেই হোক দুর্নীতি করলে এসব নামে কিছু যায় আসে না। এবার যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে ঠিকাদাররা (অবশ্যই গত বছর সমূহের দুর্নীতিবাজ পিআইসিও) মুচকি হাসবে কেবল। সরকার অবশ্য সচেতন রয়েছেন। সরকার জানেন কোন প্রেক্ষাপটে বাঁধ নির্মাণের এমন রদ-বদল হয়েছে। সুতরাং দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের যে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে, এই অগ্রিম আশাবাদ আমরা পোষণ করছি এক ধরনের বিশ্বাসের জায়গা থেকে।
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের তথ্য মোতাবেক সামনের মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় অন্তত ১০ কোটি টাকা বেশি। এই বরাদ্দ চাহিদার প্রেক্ষিতে কম নয়। যথাযথভাবে বরাদ্দের টাকা ব্যয়িত হলে জেলার বিভিন্ন হাওরের বাঁধগুলো ভালোভাবেই নির্মাণ/সংস্কার হওয়ার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন কাজে আমলাতান্ত্রিকতার বিস্তার কেমন ফল বয়ে আনে সেটি দেখার জন্য আমাদের সামনের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা হলো, জেলার হাজার কোটি টাকার ধান রক্ষার জন্য এই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে দুর্নীতিমুক্ত হোক। সেটি যে প্রথায়ই হোক না কেন। দুর্নীতি সকল প্রথায়ই করা সম্ভব আবার সব ধরনের প্রথাতেই দুর্নীতি রোধ করাও সম্ভব। আসলে ব্যক্তির ইচ্ছা, সততা, আন্তারিকতা ও দক্ষতার উপরে সবকিছু নির্ভর করে। একই সাথে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করাও গুরুত্বপূর্ণ। গতবার কিছু ঠিকাদার যেমন সময়মতো কার্যাদেশ না পাওয়ার অভিযোগ তোলেছিলেন অথবা সময়মত পিআইসি গঠন না করার যে কথা শুনা গিয়েছিল, এবার অন্তত এইসব অভিযোগ যাতে না আসে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। নতুন নীতিমালা অনুসারে ৩০ নভেম্বর পিআইসি গঠন শেষ এবং ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। এই সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জেলার আগাম বন্যা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এবার ফেব্রুয়ারি মাসেই হাওর ডুবেছে। তাই ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই যাতে বাঁধের কাজ শেষ করার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা আবশ্যক।