আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে জামালগঞ্জে দিনের পর দিন বেকার হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার বালু পাথর শ্রমিক। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছেন ঠিক তবে তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
বালু-পাথরবাহী নৌকা থেকে বালুর ডাম্পে আনলোড করা.আবার বালুর ডাম্প থেকে ঢাকা নারায়নগঞ্জ গামী কার্গো, বাল্কহেডগুলোতে লোডের কাজ করতেন শ্রমিকরা। কিন্তু নৌকা থেকে আনলোডে করতে এখন আর শ্রমিক ব্যবহার করছেন না নৌকা ও বালু পাথরের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা এখন শ্রমিকের পরির্বতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে আনলোডের কাজ করাচ্ছেন। যার কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমিক সর্দাররা জানিয়েছেন, নৌকার মালিক পক্ষ ও বালু পাথরের ব্যবসায়ীরা ১০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। শ্রমিকও কমিয়ে ফেলছেন। আর ড্রেজার মালিকরা বলছেন,বড় বড় নৌকা আনলোড করতে ড্রেজারের প্রায়োজন, লেবার খরচ কমানো সহ সময় বাঁচানোর জন্যই আমাদের ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর উপজেলা প্রশাসনের কর্নধার ইউএনও জানিয়েছেন অতি শ্রীঘই ড্রেজারের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সংসারের ভরণপোষণ, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। আবার কেউ কেউ বেকারত্ব গোছাতে চলে যাচ্ছেন এলাকা ছেড়ে, পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকা, বিয়ানীবাজার, ছাতক, ভোলাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
জানা যায়, শুধু মাত্র দুর্লভপুর এলাকায় ছোট বড় ৭০ জন লেবার সর্দারের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ছোট বড় সব দলেই কয়েক শত থেকে শুরু করে ৮০-৯০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
শ্রমিক সর্দার জামাল উদ্দিন, ইসস্কান্দর আলী, ফিরোজ মিয়া, মনু মিয়া, আব্দুর নূর, রব্বানী, খলিল মিয়া, শাহজাহান মিয়া, রমজান আলী, সিরাজ মিয়া, আবুল মিয়া, তরজুদ মিয়া, লিয়াকত, নূরুল ইসলাম, তাজুল, সোনা মিয়া, জাকারিয়া, মোতালেব মিয়ার দলে প্রায় সহশ্রাধিক শ্রমিক কাজ করতো। তাদের অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন।
ফতেপুরের শ্রমিক সর্দার জামাল উদ্দিন বলেন,‘আমরার ছোট বড় ৭০ টা দল আছে, আমার দলে আগে ২ শ’র বেশী লেবার কাম করতো, অখন আর লেবার লাগে না,আমরার মালিকরা অখন ড্রেজার দিয়া নৌকা তইন মাল ডাম্প ফালায়। আমরার সব লেবার আর কাম পায় না।
শ্রমিক সর্দার নূর ইসলাম জানান, আগে আমাদের মাল তোলা আর নামানোর লাগি সব সময় বালুর ঘাটও ডাকতো । অখন আর কেউ ডাখইননা, আমরার লেবাররা সব এলাকা ছাইড়া ভোলাগঞ্জ যাইতাছে কাম করনের লাইগ্যা।
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে দুর্লভপুরের ড্রেজার ব্যবসায়ী আনোয়ার খান বলেন,‘ভাই আপনি আমার অফিসে আসেন, আমার সাথে দেখা করেন, মোবাইলে আমার বক্তব্য না নিয়ে সরাসরি আমার বক্তব্য নেন।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী টিটন খীসা বলেন,‘ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে পরিবেশ দূষণসহ শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অতি শ্রীঘই ড্রেজারের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
- আগামী মাসে জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
- তিন উপজেলায় শোকদিবসে আ.লীগের বিভক্ত কর্মসূচি


