পুলক রাজ
পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের অন্যতম স্থান হলো ফুটপাত, ফুটপাত ধরেই হাঁটার নিয়ম। কিন্তু সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কিছু এলাকার ফুটপাত ততটা নিরাপদ নয়, ফুটপাতের ড্রেনের ঢাকনা খোলা থাকায় পথচারীদের জন্য তা হয়ে উঠেছে বিপদের কারণ। দিনের বেলায় সাবধানতা অবলম্বন করলেও রাতের বেলায় অন্ধকারে এসব ঢাকনাবিহীন ড্রেনে অনেকেই পড়ে যায় দুর্ঘটনায়, চলন্ত অবস্থায় ঢাকনাহীন ড্রেনে হুচট খেয়ে পথচারীর পড়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনা হতে বাঁচাতে এসব ড্রেনের ঢাকনা মেরামত, পুনস্থাপন ও নিয়মিত ড্রেনের ঢাকনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। শহরের কিছু সড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাছননগরের বিহারী পয়েন্ট হয়ে প্রিয়াঙ্গন মার্কেট এবং আনিসা হয়ে অটিস্টিক স্কুলের দেওয়াল পর্যন্ত ড্রেনে কোন ঢাকনা নেই। পৌর শহরের ব্যস্ততম ওই এলাকায় ড্রেনে ঢাকনা না থাকায় ঢাকনাবিহীন ড্রেনের পাশ দিয়ে চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক । ওই সড়কে পথচারী সহ শিশু, স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা হাঁটলে আতঙ্কে থাকেন কখন বিপদ নেমে আসে। মানুষের চলাচলের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এসব এলাকা।
এলাকাবাসী জানান, র্দীঘদনি ধরে ড্রেনে পড়ে থাকা ময়লার ভাগারে জন্ম নিয়েছে মশা। ড্রেনের আশেপাশে অপরচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এলাকার চারপাশ পরিস্কার রাখা দরকার। কারণ অপরিস্কার থেকেই রোগ জীবাণু তৈরি হয়।
মো. আবু তালহা বলেন, বিহারী পয়েন্ট হয়ে ড্রেনের পাশে হাঁটলে ভয় লাগে। আর সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
নাহিদ আল নেওয়াজ বলেন, বিহারী পয়েন্ট হয়ে প্রিয়াঙ্গন মার্কেট এদিকে আনিসা থেকে অটিস্টিক দেওয়াল পর্যন্ত ড্রেনের ঢাকনা নেই, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। শহরের আরও বেশ কিছু এলাকার ড্রেন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিহারী পয়েন্ট’র মো. জামাল মিয়া বলেন, ঢাকনা না থাকায় কয়দিন পরপর দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কিছুদিন আগে একটি ছোট ছেলে বাইসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলো হঠাৎ করে ঢাকনাবিহীন ড্রেনে পড়ে যায়। আমরা ছেলেটিকে আর্বজনার দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের ভাগার থেকে তুলে আনি। এলাকার মানুষ ময়লার বস্তা বা ঘরের প্রতিদিনের ময়লা ফেলে যায় ঢাকনাবিহীন ড্রেনে। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমার দাবি পৌরসভার কর্তৃপক্ষ’র কাছে দ্রুত ড্রেনের ঢাকনা লাগানো হোক ।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, ড্রেনের উপর ঢাকনা লাগানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণকে এজন্য সহযোগিতা করতে হবে । জনগণকে ময়লা আবর্জনার বড় বড় বস্তা ড্রেনে না ফেলে বাসার সামনের সড়কে রাখতে হবে। পরে পৌরসভার ট্রাক নিয়ে যাবে ।


