ঢেউয়ে ভেঙে যাচ্ছে গুইড়াখাল সড়ক

শহীদনূর আহমেদ
ঢেউয়ের আগাতে প্রতিদিনই ভাঙছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ  উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের  গুইড়াখাল সড়কটি। এক দশক পূর্বে সড়কটি নির্মাণ হলেও রাস্তার পাশে কোন সিসি ব্লক না থাকায় বন্যার পানি ও হাওরের ঢেউয়ের আঘাতে সড়কটি প্রতিবছরই ভাঙনের শিকার হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের এক তৃতীয়াংশ ভেঙে হাওরে বিলীন হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সড়কটিকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে এলজিইডির দৃশ্যমান কোন তৎপরতা না থাকলেও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানিয়েছেন, সড়কটি রক্ষায় শীঘ্রই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এক দশক আগে সংসদ সদস্যের থোক বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি পুননির্মাণ করা হয় । কিন্তু সড়ক সংস্কারকালে হাওরের ঢেউ প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। ফলে বর্ষায় ঢেউয়ের আঘাতে ক্রমাগত ভাঙ্গতে থাকে সড়কটির দুই পাশ।
এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন ৬ টি  গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ৬ গ্রামের মানুষের একমাত্র সড়ক এটি। ভাঙনকবলিত হওয়ার   ফলে ওই ৬ গ্রামের মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রয়াত চেয়ারম্যান আক্কাছ আলীর সময়ে এমপির বরাদ্দে গুইড়াখাল  রাস্তাটি নির্মিত হয়েছিল। প্রতি বছর ঢেউ আর বন্যার পানিতে  ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘ দিন রাস্তা মেরামতের জন্য কোন কাজ করা হয় নাই। তিনি বলেন,ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করছেন অসংখ্য মানুষ।’
বীরগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী দোলন আহমদ বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি ভাদলের দিনে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। ব্যবসার কাজে বাজারে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে উদাসীন।’
বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুবেশ দাস বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে খুব কষ্ট করে বিদ্যালয়ে আসতে হয় । রাস্তাটি মেরামত করলে  আমরা ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে অনেক ভালো হয়।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্িরষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম বলেন, ‘গুইড়া খালের  মুখে একটি নতুন ব্রীজের কাজ চলমান। গুইড়া খাল হতে বীরগাঁও পূর্বহাটি পর্যন্ত গুইড়াখাল রাস্তাটি পুনঃনির্মাণের জন্যে একটি প্রকল্প টেন্ডারের পথে আছে। আশা করছি অচিরেই এর কাজ শুরু হয়ে যাবে।’