শহীদনূর আহমদ
অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ভেসে গেছে জেলার ৫ শতাধিক পুকুর। গত রবি ও সোমবার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় পুকুর তলিয়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছেন বিভিন্ন উপজেলার মাছের খামারীরা। অথচ জেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পুকুর তলিয়ে যাওয়ার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমরা মৎস্য সপ্তাহ নিয়ে ব্যস্ত আছি। উপজেলা মৎস্য কর্মর্কতাদের পুকুর তলিয়ে যাওয়ার সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্যে বলা হয়েছে। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে তথ্য পেয়ে যাবে।
পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার মৎস্য চাষিরা। মৎস্য চাষীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দোয়ারাবাজার উপজেলার আলীপুর, টেংড়া, শান্তিপুর, মইশা জুরিসহ ৩০টি গ্রামের অনন্ত ২০০টি পুকুর তলিয়ে গেছে।
টেংরাটিলা গ্রামের মৎস্য চাষী বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমাদের দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় সব পুকুর ডুবে গেছে। শুধু টেংরা ও আলীপুরের প্রায় এক শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আমরা মৎস্য চাষীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন।’
সদর উপজেলার হবতপুর, জলিলপুর, বুড়িস্থল, কেজাউরাসহ ২০টি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক পকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।’
বুড়িস্থল গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার ২ টি পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ১ লক্ষ টাকার পোনা পুকুরে ফেলেছিলাম। খরচসহ মাছের মুল্য দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। সব আজ পানির নিচে চলে গেছে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা, বীরগাঁও, কান্দিগাঁও, ইসলামপুর, নিদনপুর, ব্রাহ্মণগাঁওসহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের ৭০ টি পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে । দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক আলী বলেন, ‘উপজেলার ৫০ টিরও বেশি পুুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা মুল্যের মাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার মতো গ্রামের অনেকেরই পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।’
এছাড়াও জেলার জামালগঞ্জ তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক উপজেলার শতাধিক পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


