Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
তারা কয় ইস ইস, কৃষক পায় দিস্ – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

তারা কয় ইস ইস, কৃষক পায় দিস্

পি সি দাশ, শাল্লা
‘কয়ডা মাইসের লাগি আওড়ের (হাওরের) ধান পানির তলে গেল। শালারা মাইনসের বাচ্ছা না। এই অমানুষরা কেমনে মেম্বার চেয়ারম্যান আর ঠিকাদার অয়। আমরা কত কষ্ট কইরা ধান ফলাই আর তারা বান্ধের (বাঁধের) কাম না করাইয়া কতলা টেকা খাইলাইল । তারার কিতা আয় যায় এই বেডাইরে এইতা জিগাইলে তারা কয় ইস ইস ,আর আমরা কৃষক বেডাইন পাইতাছি দিস।’
বুধবার সকালে কথাগুলো বলেই মাথায় হাত দিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন আঙ্গারুয়া গ্রামের কৃষক পবিত্র কুমার দাস। তিনি ছায়ার হাওরে এ বছর ৩৮ কেড় জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। সব ধান কাঁচা অবস্থায় পানিতে তলিয়েছে। মানুষেরেই খাদ্য নাই, তার উপর চিন্তা করছেন     গরুর খাদ্য  নিয়ে। তার ৬ টি গরুর মধ্যে তিনি ২টি গরু অর্ধেক মুল্যে বিক্রি করেছেন। বুধবার বিকাল ৪ টায় দিরাই শাল্লা সড়কে মাটির কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েক জনের মধ্যে আনন্দপুর গ্রামের বাসনা রানী দাস (৪৫) নওয়াগাঁও গ্রামের রিতিময় দাসের (৫২) সাথে এনিয়ে কথা হলে তারা বলেন কিতা কইতাম ভাই ,বিষু (নবান্ন উৎসব) খাইবার চাউল নাই । মাটি কাইট্টা টেকা নিয়া বাচ্চারারে খাওন দেওন লাগব। এসময় পাশের অনেকেই জানান ২/৩ কেড় করে তারা সবাই জমি করেছিলেন সেগুলো কাঁচা অবস্থায় তলিয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হবিবপুর গ্রামের কবিন্দ্র দাস (৬৫) বলেন এবারের মত কোন দিন কাঁচা ধান তলায়নি। আর এর জন্য তিনি পাউবোর অসাধু কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও পিআইসিকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানান বান্ডা প্রকল্পের চাতল হাওরে তিনি ১৪ কেড় জমি করেছিলেন । হরিনগরের পাশে ঠিকাদার মাটি না কাটায় সেখান দিয়ে প্রথম হাওরে পানি ঢুকে ,পরে পাশেই পিআইসি আভা রানীর বাঁধ ভেঙ্গে যায় । তিনি পানির মধ্যে কষ্ট করে আধ কেড় জমিনের কাঁচা ধান গরুর খাদ্যের জন্য কেটেছেন  । তিনি আরো জানান, এখন এলাকার অনেক পরিবারের মানুষ কাজের জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। নিয়ামতপুর গ্রামের শিক্ষক  দিলিপ সরকার বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য ওএমএস চালু করা হয়েছে । সেখানে মানুষের অনুপাতে চাউল খুবই কম। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই চাউল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে । তিনি ওএমএস চাউলের ডিলার আরো বাড়িয়ে প্রত্যেক বাজারে চাউল বিক্রয়ের  প্রয়োজন রয়েছে বলে এ প্রতিবেদককে জানান । এবিষয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবনী মোহন দাস বলেন, কৃষকের এই দুরাবস্থার জন্য প্রথমেই ঠিকাদার ও পিআইসি,পরে পাউবো দায়ী। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কল্যাণ করাই একমাত্র কাজ । তারা সেটি করেননি । বরং জনগণের সাথে তারা বেইমানি করেছে । আর ঠিকাদারদের কথা কি বলব, তারা এসি রোমে বসে থাকে,তারা কি করে বুঝবে কৃষকের বেদনা । সে জন্যই এলাকার অনেক হাওরে ঠিকাদার মাটিই কাটেনি । আর পাউবো লোকজনের হাওর তলিয়ে গেলেই কি , তাদের বিরুদ্ধেতো কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না । অবনী মোহন বলেন এই সব দুর্নীতিপরায়ণ পিআইসি, ঠিকাদার ও পাউবোর অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান হবেনা বলে তিনি জানান ।