আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
গত কয়েকদিনে তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় ৮টি হাওরের ৫ হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরবাসী মনে করেন হাওরের বাঁধগুলোতে ৫০ ভাগ কাজ করলেও এভাবে বাঁধগুলো ভেঙ্গে যেতো না।
মহালিয়া হাওর পাড়ের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক ফজল আমিন বলেন, মহালিয়া হাওরের বেহেলী ইউনিয়ন অংশের পাউবো’র কাজ পায় বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অসীম কুমার তালুকদার। ঐ কাজের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। তিনি যদি ২ লক্ষ টাকার কাজ করতেন তাহলেও হাওরটির ফসল তলিয়ে যেত না।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, চেয়ারম্যান অসীম কুমার তালুকদারের কথা বলে লাভ নেই সে শুধু অফিসে এসে বলে বিল দেন বিল দেন বলে। সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি ঐ চেয়ারম্যান বাঁধে সামান্য কাজ করেছিল।
মাটিয়ান হাওর বর্ধিতাংশের ধরুন্দ বাঁধের কাজ পায় বাদাঘাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো মফিজ উদ্দিন। মাত্র ২০ ভাগ কাজ করেছে। কিন্তু বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২শ ৬৪ টাকা।
একই ভাবে গুরমার হাওরের একটি অংশের কাজ পায় শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার। বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৪৭৭টাকা। শনির হাওরে ইক্রামপুর হইতে আহাম্মক খালী পর্যন্ত বেড়ী বাঁধের কাজ পায় মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ। বরাদ্দ দেয়া হয় ৫০ লক্ষ টাকা। কিন্তু তারা বাঁধে বলতে গেলে তেমন কোন কাজই করে নি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ঠিকাদাররা তো বলতে গেলে কোন কাজই করেনি। পিআইসিরা ৪০ ভাগ কাজ করেছে। বাদ বাকী এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের ফলে শনি ও মাটিয়ান দুটি হাওর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে এখনও টিকে আছে।


