তাহিরপুরে নিরিহ পরিবারকে হুমকি দুই যুবককে আটকের পর ছেড়ে দিল পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি
তাহিরপুরে নিরিহ এক পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে হয়রানী এবং হত্যার হুমকিদাতা দুই যুবককে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক দুই যুবকের একজন বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িতেই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একেএম জালাল উদ্দিনের সাথে বেপরোয়া আচরণ করার পরও তাকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হয়রানী ও হত্যার হুমকির শিকার উপজেলার বাদাঘাটের মৃত হরেন্দ্র তালুকদারের ছেলে স্বপন তালুকদার জানান, গত ৭ জুলাই সন্ধায় ০১৭৫৬-৩৬৪১৮৪ নং মোবাইল ফোন থেকে তার পারিবারিক একটি মোবাইল ফোনে কয়েকদফা কল করে হয়রানীমুলক কথাবার্তা এমনকি তার ১০ম শ্রেণীতে স্কুলে পড়ুয়া ছেলে অমিত তালুকদারকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এতে ভীত হয়ে পড়েন পুরো পরিবার। পরে অমিতকে নিরাপদে রাখতে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপরও হুমকি আসা বন্ধ হয়নি। এক  পর্যায়ে নিজের ও পরিবারের সবার নিরাপত্তা চেয়ে স্বপন তালুকদার ১৩ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। (জিডি নং-৪৪৮)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, থানায় জিডি করার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সুত্র ধরে রবিবার রাতে প্রথমে উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের খেজুর মিয়ার ছেলে নাজমুল (২২) কে গ্রেফতার করেন। নাজমুলের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে তার প্রতিবেশী জহিরুল ইসলামের ছেলে বদরুল মনির (২২) কে আটক করতে বাড়িতে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অভিভাবকের মাধ্যমে তাকে ডেকে এনে আটক করা হয়। মোবাইলের কল লিস্টে বদরুল মনিরের নম্বরও রয়েছে। এমনকি একাধিবার হয়রানী ও হত্যার হুমকি দেয়ার ভয়েজ রেকর্ডও রয়েছে। বদরুল পুলিশ ফাঁড়িতে আসার পর কয়েকদফা ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে বেপরোয়া আচরণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে তদন্তকাজ অসমাপ্ত রেখেই বখাটে নাজমুল ও বদরুলকে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়।
অভিযোগকারী স্বপন তালুকদার বলেন,‘আমি ও আমার পরিবার চরম হয়রানীর শিকার হয়েছি, হত্যার হুমকি পাবার পর আমার ছেলের লেখাপড়া বন্ধ করে তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এখন ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের আগেই বদরুলের আত্মীয় স্বজনরা অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য আমাকে রবিবার রাত থেকে নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।’
আটককৃত হুমকিদাতা যুবককে রাতে ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই একেএম জালাল উদ্দিন বলেন,‘কাউকে আমি আটক করি নি। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’