স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট (উ:) ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের শহীদনূর হত্যা মামলায় ৭ আসামীর মধ্যে ৬জন চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার সকালে শহরের পৌরমার্কেটে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই গোলাম নুর জানান, চলতি বছরের ৩ মার্চ বেলা ১১টায় বাদাঘাট (উ:) ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগটিয়া গ্রামে
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে শহীদনুরকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এই মামলার হুকুমদায়ী আসামী ঘাগটিয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম, তাওহিদ, হেফাজুল, আজহার মিয়া এবং টেকাটুকিয়া গ্রামের পারভেজ মিয়াকে চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ৬ আসামীকে অব্যাহতি দেওয়ায় তাদের দ্বারা আরও বড় ধরণের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশংকায় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তার পরিবারের লোকজনকে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রকৃত অপরাধীদের অভিযোগপত্রে (চার্জশীটে) যুক্ত করে আদালতে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত শহীদনূরের পিতা নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন সকালে মামলায় উল্লেখিত আসামীরা এক স্থানে জড়ো হয়ে প্রথমে তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে মারধর শুরু করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দৌঁড়ে আসেন। এ সময় শহীদনূরও আসেন ঘটনাস্থলে। তখন শহীদনূরকে প্রাণে মারার হুকুম দেয় শহীদুল ইসলাম নামের আসামী। তিনি জানান, চার্জশীট থেকে আসামীদের নাম বাদ দেওয়ার সময় মামলার বাদী গোলাম নূর বা পিতা হিসাবে তাকেও কোনো কিছু জানানো হয়নি। এসব কারণে সন্দেহ হচ্ছে ছেলে হত্যা মামলায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁর পরিবার । হত্যা মামলার পুন: তদন্তপূর্বক প্রকৃত আসামীদের চার্জশীটে যুক্ত করার দাবি তিনি।
সংবাদ সমে¥লনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগ নেতা জ্যোতির্ময় বনিক দীপ্ত, শিমুলতলা গ্রামের নুর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।


