বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরাঞ্চলের উপজেলা তাহিরপুরে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন জমে ওঠেছে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে এসেছেন ১৯ জন প্রার্থী। স্থানীয় ভোটারদের দেওয়া তথ্য অনুসারে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীরাও লড়াইয়ে রয়েছেন।
এই উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে দুই নির্বাচনী পরিবারের ৪ চাচাতো ভাইসহ ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আপ্তাব উদ্দিন।
স্থানীয় ভোটাররা বলেছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন নৌকা প্রতীক পাওয়ায় এবং ইউনিয়নের ভোটাররা পূর্ব থেকেই দুটি বলয়ে (জালাল-জয়নাল) বিভক্ত থাকায় এক বলয়ের ভোটারদের নৌকার ভোটাররা যুক্ত হয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন তিনি। অন্যদিকে, স্থানীয় ভোটারদের অন্য বলয় প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকায় লড়াই হবে এই দুই জনেই। অবশ্য, আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের ছেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের চাচাতো ভাই মুর্শেদ আলমও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে আসার চেষ্টা করছেন।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে প্রার্থী ৫ জন। এখানে লড়াই হবে দ্বিমুখী। বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ও বিএনপির প্রার্থী খসরুল আলমের মধ্যে।
স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৩ বার চেয়ারম্যান থাকায় এবং তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি হওয়ায় ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বেশি। অপরদিকে, খসরুল আলমের বাবা সুরুজ আলী এবং ভাই মর্তুজ আলী এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় এবং এলাকায় খসরুল আলমের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় ভোটের লড়াইয়ে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। এখানে ত্রিমূখী লড়াই হবে। বর্তমান চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মহসিন রেজা মানিক এবং বিএনপির প্রার্থী আলী আহমদ মুরাদের মধ্যে। স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন- বর্তমান চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ তালুকদার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি’র তেমন কোন অভিযোগ না থাকায় মূল লড়াইয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, অ্যাড. মহসিন রেজা মানিক বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এবং গত ৫ বছর ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন তিনি। অপর প্রার্থী আলী আহমদ মুরাদ বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হওয়ায় মূল লড়াইয়ে রয়েছেন তিনিও।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নে প্রার্থী ৪ জন। এই ইউনিয়নে দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামাল উদ্দিন ও বিএনপির প্রার্থী আবুল কাশেমই এখানে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন।
ইউনিয়নের একাধিক ভোটার বলেছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন নৌকা প্রতীক পাওয়ায় এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় দুই প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজের সঙ্গে দলীয় ভোট যুক্ত হয়ে এখানে দ্বিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে ওঠেছে।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনুস আলী, বিএনপির প্রার্থী আজহার আলী এবং বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সবুজ আলম লড়াইয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন- এই ইউনিয়নে বিএনপির ভোটার বেশি হওয়ায় বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী এবং আরেকজন বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে এসেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কম থাকায় এবং ভোটারদের কাছে ইউনুস আলী বিনয়ী হিসাবে পরিচিত হওয়ায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন তিনিও।
- জগন্নাথপুরে মসজিদের ইমামের কক্ষে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ- ভিডিও প্রকাশের পর ইমাম গ্রেফতার
- নবনির্বাচিত ইউপি জনপ্রতিনিধিগণের শপথ গ্রহণ- আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে


