আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
সড়ক ও জনপথের তাহিরপুর-ওয়েজখালী সড়কের আনোয়ারপুর-ফতেপুর অংশ দেড় বছর ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দেড় বছর আগে আনোয়ারপুর থেকে মোটরসাইকেলে ৫০ টাকা এবং সিএনজি করে ৩০ টাকা দিয়ে সহজেই ফতেপুর যাওয়া আসা করা যেত।
গত দুই বছরের বন্যায় এই রাস্তাটি স্থানে স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে খারাপ হওয়ায় এখন মোটরসাইকেলে প্রতি যাত্রীকে একশ টাকা করে গুণতে হচ্ছে। আর সিএনজি চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে। তাই যতদিন পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার না হচ্ছে ততদিন এই সড়কপথে চরম দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে। গত দুই বছরের বন্যায় স্থানে-স্থানে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের দুই-এক জায়গায় এখন বাঁশের সাঁকো দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের ওয়েজখালী সড়ক পথের দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। গত দুইবারের বন্যায় তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজার থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় আনোয়ারপুর, লোহাচোরা পাতারি, তিওরজালাল, পুরান বারুঙ্কা গ্রামের লোকজন নিজেদের চলাচলের সুবিধার্থে চাঁদা তোলে বাঁশের সাকো তৈরী করে যোগাযোগ স্থাপন করে।
জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ মাসের মধ্যেও রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করে।
হেমন্তকালে স্থানীয় লোকজন কোন রকম পায়ে হেঁটে এ সড়কটি ব্যবহার করলেও বর্ষায় কোন ভাবেই চলাচল করতে পারবেন না বলে জানান এলাকাবাসী।
বীরনগর গ্রামের অটোরিক্সা চালক আবুল কাহার বলেন,‘ সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্বে তাহিরপুর থেকে আনোয়ারপুর ও ফতেহপুর পর্যন্ত অটো রিক্সা নিয়ে যাওয়া যেত। এখন শুধূমাত্র আনোয়ারপুর বাজার পর্যন্ত চলাচল করা যায়।
আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র দে বলেন,‘ বন্যায় সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর বাঁশের সাকো তৈরী করে যাতাযাতের ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু সাঁকো পারাপারে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা নানামূখী সমস্যায় পড়ে।’
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুজ জহুর বলেন,‘ তাহিরপুর-ওয়জেখালী সড়কটি মেরামত না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোক।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন,‘ আপাতত এই সড়ক সংস্কারে কোন প্রকল্প নেই। ফতেপুর নদীতে ব্রিজের কাজের প্রকল্পের সঙ্গে এই সড়কের একটি প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে।’


