তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুর সীমান্তে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক পরিচায়দানকারী এক যুবককে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় পাথর শ্রমিকরা। সাংবাদিক পরিচয়ে কৌশলে সীমান্তের ওপারের ছবি ও পাহাড়ি ছড়া থেকে পাথর উত্তোলনরত শ্রমিকদের ছবি তোলার পর স্থানীয় শ্রমিকরা গণধোলাই দিয়ে ওই কথিত সাংবাদিকসহ ৪ জনকে বিজিবির হাতে সোপর্দ করে।
শনিবার দুপুরে তাহিরপুর সীমান্তের চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী যুবক হলেন, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আউটা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে মোটর সাইকেল চালক শাবজল হোসেন।
বিজিবি ও পাথর শ্রমিকরা জানায়, উপজেলার চারাগাঁও সীমান্তের মেইন পিলার ১১৯৫ এর থ্রী এস-এলাকার ১’শ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তর থেকে ওই কথিত সাংবাদিক শাবজাল হোসেন তার অপর তিন সহযোগীকে নিয়ে সীমান্তের ওপারের ও পাহাড়ি ছড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরে পাথর উক্তোলনরত শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি ছবি তুলে। ছবি তোলার পর পাথর শ্রমিকদের কাছে চাঁদা চাইলে কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাবজালকে শ্রমিকরা গণধোলাই দিয়ে তার অপর তিন সহযোগীকে টহলরত বিজিবির নিকট সোপর্দ করে।
অভিযোগ রয়েছে, দুধের আউটা গ্রামের মোটর সাইকেল চালক শাবজল হোসেন নিজেকে কখনো কলেজ শিক্ষার্থী, কখনো অনলাইন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয়ে গত এক বছর ধরে সীমান্তবর্তী চাঁনপুর থেকে বীরেন্দ্রনগর সীমান্ত এলাকায় পাহাড়িছড়া থেকে পাথর উক্তোলনকারী শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
এদিকে তার সাথে থাকা অপর তিন কলেজ শিক্ষার্থী জানায়, বেড়ানোর কথা বলে সাবজল তাদেরকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। কিন্তু সে ছবি তুলবে আর শ্রমিকরা ক্ষেপে যাবে এ বিষয়টি তারা জানত না। তারা আরো জানায়, এই অবৈধ কর্মকান্ডের জন্য এর আগেও সে চাঁনপুর, লাকমা, ও ডাম্পের বাজারে একাধিকবার লাঞ্ছিত হয়েছে।
সীমান্তবর্তী কয়েকজন লোক জানান, শাবজাল মুলত একজন মোটর সাইকেল চালক হিসাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করে। সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।
এ বিষয়ে সাবজল হোসেন জানায়, আমার বাড়িতে একটি অনলাইন পত্রিকার কার্ড আছে। এই কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কার্ড সাথে নেই। সীমান্তের ছবি তোলার জন্য আমি ভুল স্বীকার করেছি। অনলাইন পত্রিকার নাম জানতে চাইলে সে পাশ কাটিয়ে যায়।
চারাগাঁও বিওপির বিজিবির টহল কমান্ডার নায়েক মোজাম্মেল হক জানান,শ্রমিকরা শাবজালসহ ৪জনকে আমাদের হেফাজতে দেয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে মুছলেখা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শাবজল কলেজ শিক্ষার্থী অথবা সাংবাদিক পেশার কোন পরিচয়পত্র তাৎক্ষণিক বিজিবিকে দেখাতে পারেনি।
- ধর্মপাশা মাস্টার বাড়ি সুফিয়া রহিম গণপাঠাগারে দাবা বোর্ড প্রদান
- প্রায় ৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করেছে বিজিবি


