স্টাফ রিপোর্টার
বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও লেখক মতিউর রহমান স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভা আয়োজন কমিটির আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত।
শোকসভার শুরুতেই মতিউর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ভার্চুয়ালি শোকসভায় সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেন, আমি মনে করি ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রত্যন্ত সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকার মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রত্যন্ত এলাকার অতন্দ্র প্রহরী যাঁরা ছিলেন, দেশকে স্বাধীন করার জন্য সম্মুখ সমরে এসে যারা যুদ্ধ করেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তাঁদের একজন। তিনি আমাদের জন্য একটি দেশ দিয়ে গেছেন। অনাগতকালে, চিরকাল আমরা তাঁকে স্মরণ করবো। আমি প্রার্থনা করি আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। একই সঙ্গে স্রষ্টা যেন তাঁর পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দেন।
তিনি বলেন, মতিউর রহমান শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি বলেন, আমি জুবিলী স্কুলের ছাত্র। জুবিলীর ১২৫ বছর উৎসব পালনের জন্য তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তাঁর সহযোদ্ধারা যে পরিশ্রম করেছেন আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি।
জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অ্যাড. এনাম আহমেদ’র সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন লেখক সুখেন্দু সেন। এছাড়াও শোকসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মতিউর রহমান পীর, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, সিনিয়র আইনজীবী ও গবেষক অ্যাড. আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ, অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আইনজীবী আইনুল ইসলাম বাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি নাদির আহমদ, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য্য, জেলা আ.লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শাহ আবু নাসের, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. শামছুল আবেদীন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিন, জেলা পরিষদ সদস্য ফৌজি আরা বেগম শাম্মী।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, কলেজে অধ্যয়নকালে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। একনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে। মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের অন্তরে।
এর আগে মরহুমের পরিবারের হাতে শোকবার্তা তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ৭ নভেম্বর রবিবার রাত ৮.২০ মিনিটে বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছিলেন।


