এনামুল হক, ধর্মপাশা
দক্ষিণ দিকে হেলে থাকা নড়বড়ে সেতুর উভয় পাশে বাঁশের মই। সেই মই বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে। সেতু থেকে নামতেও ভরসা সেই বাঁশের মই। যদিও সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে অনেক আগেই। যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এমনটি জেনেও প্রয়োজনের তাগিদে এ সেতু দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছেন হাজারও পথচারী। মই বেয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে নিচে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন দশা ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের শিংপুর-গাবী সড়কের কালিজানা সেতুর। দীর্ঘ বছর ধরে সেতুটির বেহাল দশার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাবী, সরিষাম, মির্জাপুর, কাকিয়াম, শিংপুরসহ আশপাশের ৮/১০টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মনাই নদীর ওপর কালিজানা সেতুটি পুনর্র্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পুননির্মাণের কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেতুটির রেলিং ভেঙে যায়। আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে এলাকার লোকজন এ সেতুটিকে ফসল রক্ষা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করায় পানির চাপে সেতুটি দক্ষিণ দিকে হেলে যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বন্যায় সেতুর পশ্চিম দিকের খুঁটি সংলগ্ন মাটি সরে গেছে। ফলে সেতুটি মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে ওইসব গ্রামের মানুষেরা উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে ঝূঁকিপূর্ণ সেতুটিই ব্যবহার করছেন। ওইসব গ্রামে মানুষজনকে জরুরি ভিত্তিতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশা বাজার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। এতে করে ঘন্টা দেড়েক সময় বেশি লাগে। কিন্তু কালিজানা সেতুটি পুননির্মাণ হলে ২৫-৩০ মিনিটে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছা যাবে।
শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সেখানে সরেজমিন দেখা যায়, গাবী গ্রামের এনামুল হক সাইকেল নিয়ে মই বেয়ে সেতু পার হচ্ছেন। তিনি জানালেন, ১৫/২০ বছর ধরে সেতুটির এমন বেহাল অবস্থা। প্রায়ই সাইকেল নিয়ে এ সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে তাঁর ঘন্টাদেড়েক সময় বেঁচে যায়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত একই গ্রামের জাকির হোসাইন বলেন, ‘বর্ষায় সড়কটি ডুবে যায়। হেমন্তে সড়কে পানি না থাকলেও সেতুর নিচে পানি থাকে। তাই সেতুটি ব্যবহারের উপযোগিতা থেকে যায়। কিন্তু সেতুর উভয় পাশের মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয়রা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের মই দিয়ে সেতু পারাপার করেন। সেতুটি নির্মাণ হলে ২০/৩০ মিনিটের মধ্যে আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারবো।’
শিংপুর গ্রামের সাফায়েত হোসেন লিটন বলেন, ‘এ ভাঙা সেতুর জন্য আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সেতুটি পুননির্মাণের দাবি জানাই।
উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিলেট বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কালিজানা সেতু পুননির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা ও ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’


