তীব্র ভূকম্পন

সু.খবর রিপোর্ট
মঙ্গলবার বিকাল ৩.১০ ঘটিকায় সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাঝারী মানের তীব্র ভূকম্পন হয়েছে। ভূ-কম্পনের সময় জগন্নাথপুর ও ছাতকে আতংকগ্রস্ত হয়ে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া জগন্নাথপুর ও শাল্লায় দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ভবনে ফাটল ধরার খবরও পাওয়া গেছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি’র আর্থ অবজারভেটরি’র পরিচালক ড. হুমায়ুন আক্তার জানান, ৫ দশমিক ৫৯ মাত্রার এই ভূ-কম্পন ঢাকা থেকে ১৭০ কিলোমিটার পূর্ব উত্তর পূর্বের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়। মাটির ৩৬ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি। বাংলাদেশের যেখানে নরম মাটি সেখানে বেশি কম্পন হয়েছে। আবার যেখানে মাটি শক্ত সেখানে কম কম্পন অনুভূত হয়েছে। কম্পন স্থান ভেদে ৫ থেকে ৭ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
জগন্নাথপুরে নিহতের নাম হিরণ মিয়া (৬০)। উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এছাড়া মাদ্রাসার দুইতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আরেক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। আহত কিশোর নাদিউর রহমান (১৪) কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩ টা ১০ মিনিটে ভূকম্পনের সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ভূ-কম্পনের সময় জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের হিরণ মিয়া (৬০) মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা হিরণ মিয়াকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেবার পর কর্তব্যরত ডা. মধুসুদন ধর জানান, ভূ-কম্পনের সময় আতংকিত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একই সময়ে ভয়ে পাটলী মাদ্রাসার দুই তলা ভবন থেকে শিক্ষার্থী নাদিউর রহমান ঝাপিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আহত নাদিউর হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
এদিকে ছাতকে ভুমিকম্পে শামীমা আক্তার টুনি (১৪) নামের একস্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।    মঙ্গলবার বিকেলে ভুমিকম্প অনুভূত হওয়ার সময় ৩য় তলা থেকে নীচে নামার সময় পড়ে গিয়ে সে মারা যায়। শামীমা আক্তার ছাতক সিমেন্ট কারখানার এমটিএস বিভাগের কর্মরত শ্রমিক সামছুল হকের কন্যা ও কারখানার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। ভূমিকম্পের সময় ফ্যাক্টরির ৪নং এলাকার স্টাফ কোয়ার্টারের ৩য় তলার নিজ বাসা থেকে তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়ে টুনি গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত ছাতক উপজেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শামীমা আক্তার টুনি গত ক’দিন ধরে শারীরীকভাবে অসুস্থ ছিল বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে ভূমিকম্পে ছাতক শহরের বাগবাড়ী, মন্ডলীভোগ, ট্রাফিক পয়েন্ট মসজিদ, নোয়ারাই মসজিদ, চরেরবন্দসহ কয়েকটি স্থানে বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।