তৈরি ইজতেমা ময়দান

শহীদ নূর আহমেদ
তাবলীগ জামাতের সবচেয়ে বড় দাওয়াতি জমায়েত হচ্ছে ইজতেমা ময়দান। সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গির তুরাগ পাড়ে  দুই ধাপে কেন্দ্রীয় ইজতেমা হয়ে গেলেও প্রতিবারের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় আগামী  ৯,১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলার সর্ববৃহৎ তাবলীগ জমায়েত।   আব্দুজ জহুর সেতুর বিপরীতে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের  পাশের মাঠে নির্ধারণ করা হয়েছে ইজতেমা মাঠ।
এবারের ইজতেমায় দেশ বিদেশের  ১২ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন ইজতেমা আয়োজকরা। ইজতেমায় দাওয়াতি কাজে জামাতবন্দী হবে ১২ টি দেশের একাধিক          
 জামাত। ইতোমধ্যে তাঁরা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে দাওয়াতি কাজ করছেন ।
ইজতেমা আয়োজকদের দেয়া তথ্য মতে, ১৭ লক্ষ বর্গফুট মাঠ ও সড়কের আশপাশ জুরে বাঁধা হয়েছে  ইজতেমা মাঠের  ছামিয়ানা। ইজতেমা মাঠে বিদ্যুৎ সরবরাহে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বাঁেশর খ্ুঁটি দিয়ে অস্থায়ী ভাবে টানিয়েছে বিদ্যুৎয়ের তাঁর। বিদ্যুৎ সংযোগে প্যান্ডেলের ভিতরে ক্যাবল টানিয়ে হাজারের অধিক বৈদ্যুতিক বাতির মাধ্যমে আলোর সু ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের ওযু ও গোসলের জন্যে বসানে হয়েছে বাশেঁর ঘাটলা । ময়দানের চতুর্দিকে বসানো হয়েছে  প্রায় ১২ শ’ টয়লেট। ৫ টি গভীর নলকুপ থেকে মটর দিয়ে পানি উত্তোলন করে  জামাতিদের খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। স্ব স্ব জামাতের উদ্যোগে ব্যবস্থা করা হবে খাবার ও ত্রিপাল। মাঠের কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্বেচ্চাশ্রমের ভিত্তিতে।
ইজতেমা মাঠকে  উপজেলা অনুসারে রাখা হয়েছে ১১ টি কিত্তায়। প্রতি কিত্তাকে ১৫ থেকে ৩০ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভাগগুলোতে রয়েছে অসংখ্য খুঁটি । পুরো মাঠ জুরে প্রায়  ৩২০০ খুঁটিতে ভাগ করা হয়েছে। একেক খুঁটিতে অবস্থান করবে প্রায় পাঁচশত লোক। প্রতি জামাত খুঁটি অনুযায়ি  অবস্থান করবে। মাঠের ভেতর রাখা হয়েছে ৫ টি চলাচলের রাস্তা। এই রাস্তার নির্দেশনা মতে যোগাযোগ করবেন জামাতবন্দীরা। কার্যক্রম ও দায়িত্ব অনুসারে থাকছে অসংখ্য জামাত। যেমন, মুছল্লিদের পানি সরবরাহে থাকবে পানির জামাত। সাউন্ড ও মাইক সরবরাহে থাকবে মাইক জামাত, চিকিৎসা সেবায় থাকবে মেডিকেল টিম, বয়ান আমলে কাজ করবে জুরনে ওয়ালি জামাত। ইজতেমা শেষে জমাতবন্দীদের চিল্লা গঠনে কাজ করবে তাশকিলে জামাত, মেহমান খেদমতে থাকবে একটি জামাত। পথ নির্দেশনায় কাজ করবে একটি জামাত। ইজতেমা মাঠের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে দায়িত্ব পালন করবে একটি জামাত। বোবা বা বাক প্রতিবন্ধি লোকদের বয়ান শুনাতে ও বুঝাতে কাজ করবে বধির জামাত।
নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতে বসানো হয়েছে ৩০ টি  সিসি ক্যামেরা। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে প্রায় ৫ শত পুলিশ।  থাকবে পুলিশের দুইটি কন্ট্রোল রুম।  পথ চারিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে  বসানো হবে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনে কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ। আব্দুজ জহুর সেতুর সম্মুখে ও বড়ঘাট এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশের চেক পোস্ট। ইজতেমা মাঠের পাশে গাড়ি পার্কিং এর কোন ব্যবস্থা না থাকলেও বিসিক মাঠে জামাতিদের যানবাহন রাখার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থান নির্ধারণ,যোগাযোগ,আবহাওয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ ইজতেমা আয়োজনে অন্যান্য বছরে তুলনায় এবারের প্রস্তুতি অধিক ভাল বলে দাবি আয়োজকগণের।  
ইজতেমা আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইজতেমার বিশিষ্ট মুরব্বী মাওলানা আনোয়ার হোসাঈন বলেন, মানুষ সত্তার দিক দিয়ে ভাই ভাই আর মুসলমান ধর্মীয় দিক দিয়ে একে অপরের ভাই । দাওয়াতে তাবলীগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো  প্রত্যক মানুষ যাতে ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারে সেই লক্ষ্যে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করা। অন্যান্য বারের মত এবারও আমরা ৯, ১০ ও ১১, ফেব্রুয়ারি ইজতেমা আয়োজন করেছি। আশা করছি এবারের ইজতেমায় দেশ বিদেশের প্রায় ১২ লক্ষাধিক মানুয়ের জমায়ত হবে।
ইজতেমা মাঠের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ইজতেমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পথচারি ও ইজতেমা ময়দান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
কাকরাইল মসজিদের ইমামের ইস্তেক বালি বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে ইজতেমার প্রথম দিন। আগত দেশি বিদেশী মেহমানদের মধ্য থেকে কোরআন ও হাদিসের আমল ও সওয়াবের উপরে ধারাবাহিক বয়ান অনুষ্ঠিত হবে।  তিন দিনের নছিহত বয়ানে বক্তব্য রাখবেন ফ্রান্স, ইতালি, মরোক্কো, কুয়েত, আমেরিকা, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, ভারত, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের আলেমেদীনগণ। ১১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ইজতেমা কার্যক্রম।