দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অসহায় মানুষের পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শত শত মানুষ। এদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই দিন আনে দিন খায়। খেটেখাওয়া, দিনমজুর। এমন পরিস্থিতিতে এসব সাধারণ, কর্মহীন, খেটেখাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো।
কোনও কোনও সংগঠন করছেন খাদ্য সহায়তা আবার কোনও কোনওটি পালন করছেন সচেতনতামূলক কর্মসূচি। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের গ্রাম, পাড়া বা মহল্লার বেকার হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সংগঠনগুলোর সদস্যরা, করেছেন খাদ্য সহায়তা। শুধু যে সংগঠনগুলোই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে তা কিন্তু নয়, ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহেযোগিতার হাতও। উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও অসহায়ের পাশে ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে, সংক্রমণ ঠেকাতে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নানা ধরণের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মাস্ক বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা। সামাজিক সংগঠনগুলোর এমন কর্মসূচিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন দায়িত্বশীলরা।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলা, জয়কলস, পশ্চিম বীরগাঁও, দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও, শিমুলবাঁক ও
পাথারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে বেকার হয়েপড়া সাধারণ, দিনমজুর ব্যক্তিদের খাদ্য সহায়তা, মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পালন করেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মানুষ। এই মহামারিতে উপজেলায় আল-হান্নান ইসলামি সমাজ কল্যাণ সংস্থা পাগলা, বাঘেরকোনা যুব সমাজ, ত্রিনয়নী পূজা কমিটি, জয়কলসে বিজয় সমাজ কল্যাণ সংস্থা, আবাবিল তরুণ সংঘ, ডুংরিয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে, পূর্ব বীরগাঁও কল্যাণ ট্রাস্ট, হাঁসকুড়ি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি, সলফ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, বীরগাঁও যুব কল্যাণ ফাউন্ডেশন, দরগাপাশা ইউনিয়ন যুবকল্যাণ সংস্থা, আক্তাপাড়া (মিনাবাজার) ব্যবসায়ী সমিতি, আলোর দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, শিমুলবাকে হিলফুল ফুজুল ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, আল ফালাহ্ ইসলামি যুব সংঘ তেরহাল, পাথারিয়া গ্রামের যুব সমাজ, গাজিনগর ইউনাইটেড
সমাজ কল্যাণ পরিষদ, গাজীনগর আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ইতালিস্থ সুনামগঞ্জের একটি সংগঠন, পূর্ব পাগলায় রনসী পূর্ব পাড়া ইসলামী যুব সংঘ, চিকারকান্দির কয়েক জন যুবক, কাঁঠালিয়া ও আক্তাপাড়া মৎসজীবী সমবায় সমিতিসহ আরও বিভিন্ন সংগঠন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি ফরিদুর রহমান ফরিদের ভাই লন্ডন প্রবাসী হাজি আবদুল হাসিম, বগুলারকাড়া গ্রামের রুকনুজ্জামান রুকন ও মুস্তাফিজুর রহমান রুমেল, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের লন্ডন প্রবাসী রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজা, শিমুলবাক গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকিকুর রহমান আকিক, আলী আমজদ, আলমগীর হোসাইন, দরগাপাশার শিক্ষক শ্যামন্ত কুমারের প্রবাসী ছেলে-মেয়ের উদ্যোগে, কয়েছ মিয়া ও সুমন মিয়ার যৌথ উদ্যোগে, ছয়হারায় মো. সুহানুর রহমান সুহান, মো. আজহার উদ্দিন, আতিক আবদুল হাকিম,
হাবিবুর রহমান ও বশির মিয়ার যৌথ উদ্যোগে পুরো গ্রাম জোরে মাস্ক বিতরণ,নগাজীনগর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী তানভীর আহমদ, ইংল্যান্ড প্রবাসী মিনহাজ আহমদ, পাগলায় পুলিশ সদস্য লিকসন দাশ, গণমাধ্যমকর্মী ইয়াকুব শাহরিয়ারের উদ্যোগে, সমাজকর্মী শাহিন মিয়ার উদ্যোগে, জাহিদুল ইসলাম, লন্ডন প্রবাসী মোসাদ্দেক রায়হান বাবু, পূর্ব পাগলার পিঠাপশী গ্রামের খসরু মিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সাধারণের মাঝে মাস্ক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খসরু মিয়া বলেন, ‘আমরা অনুধাবন করেছি এখন মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। তাই ব্যক্তিগত নিজেদের লোকের মাঝে কিছু খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। তবে আমরা আরেকটি বড় উদ্যোগ নেবো। মানুষের অনেক চাহিদা। কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেকে কষ্টের মাঝে দিনানিপাত করছেন। আমরা আলোচনা করছি। বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়ার একটি ব্যবস্থা করবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এই যে সংগঠন ও ব্যক্তিরা আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসছেন তা অবশ্যই সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। প্রমাণ হচ্ছে যে, মানুষ আসলেই মানুষের জন্য।’ তাঁর ব্যক্তিগত সহায়তার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শো অফ করার জন্য সাধারণ মানুষকে সহায়তা করছি না। পুলিশ সুপার মহোদয়ের উৎসাহে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য সহায়তা করে একটি ম্যাসেজই সমাজের ভিত্তবানদের মাঝে পৌঁছাতে চাই যে, আপনারাও এগিয়ে আসুন। এই মহামারিতে একটু
খাদ্য সহায়তা পেলে মানুষ ঘরে থাকবে। বাড়িতে থাকলে করোনাও দূরে থাকবে।’
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মাসুদ আহমদ বিভিন্ন সংগঠনের এগিয়ে আসাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই ভালো। তবে আরও ভালো হতো যদি এসকল খাদ্য সামগ্রী সমবণ্টন হতো। যারা বিতরণ করছেন তাদের প্রতি অনুরোধ রইলো আপনারা যখন বিতরণ করবেন তখন ভালো করে যাচাই বাচাই করে নিন যে, যাকে দিচ্ছেন তিনি এর আগে পেয়েছেন কি না। তাহলে সমাজের সকলের কাছে এই খাদ্য
সহায়তা পৌঁছে যাবে।’