কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের একমাত্র শস্য ভান্ডার অনেক স্বপ্নের সোনালী বোর ফসল পাকতে শুরু করেছে। এই এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ধান কাটার শ্রমিক (নাইয়ার) উপর নির্ভরশীল কৃষক সমাজ। বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে অধিকাংশ কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আর ৫-১০ দিন পর ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে গণ পরিবহন বন্দ থাকায় এবং মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন উপজেলা তথা দূর দূরান্ত থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে নারাজ এবং কেউ কেউ আসতে চাইলেও পথে পথে প্রশাসনের চেকপোষ্টের ভয়ে আসতে চাচ্ছেন না।
কৃষকরা আরও জানান, এই অবস্থায় যদি শ্রমিক না আসে তাহলে গোলায় ধান তুলা কঠিন হয়ে যাবে। ধান না তুলতে পারলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে। এই অবস্থায় সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকদের দাবি বর্তমান ধান কাটার সময়ে যাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিক (নাইয়া) আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
জানা যায, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৮ টি ইউনিয়নের কয়েকটি হাওরে এবার ২২ হাজার ৩ শত ৩৯ হেক্টর বোর ফসল আবাদ হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের কৃষকদের খোজঁখবর নেওয়া হচ্ছে এবং যে সমস্ত ইউনিয়নের ধান কাটার মেশিন ও ধান মাড়াই করার মেশিন দেওয়া হয়েছে তা সচল রাখার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রেখে ধান কাটার শ্রমিকরা যাহাতে ধান কাটতে আসতে পারে সেই ব্যাপারেও খোঁজখবর রাখছেন তারা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী জানান, এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক যদি এলাকায় আসতে চান তাহলে তারা স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ধান কাটায় আসতে পারবেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে স্কুলে অথবা খোলামেলা জায়গায় তাদেরকে থাকতে দিতে হবে যাতে শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারেন। তবে যদি কারও সর্দি,কাশি অথবা জ্বর হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে জানাতে হবে। আর যদি তারা আসার পথে কোন বাঁধার সম্মুখীন হন তাহলে আমাদেকে জানালে আমরা পুলিশকে বলে দেব যেন ধান কাটার শ্রমিকদের আসতে বাঁধার সম্মুখীন না হতে হয়।


