দায়িত্বশীল একাধিক সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের পর্যবেক্ষণ ধর্মপাশা-মধ্যনগর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮৪ জন

বিন্দু তালুকদার
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সংস্থা ও রাজনৈতিক দলসহ নানা মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য মোতাবেক ধর্মপাশা-মধ্যনগরের ১০ টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৮৪ জন। রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে কাজ করছেন ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
দায়িত্বশীল সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত, দলীয় সংশ্লিষ্টতা, ইতিপূর্বে নির্বাচন করেছেন কি না, জনমত যাচাইয়ে ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার, নেতিবাচক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, সরকারি দলের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী কে, জয়ী হতে হলে কি করণীয়- এসব বিষয়ে রিপোর্টে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের শামীম আহমদ বিলকিস, মো. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহ আলী আকবর, সেলিম আহমদ ও রিপা আক্তার এবং বিএনপির মো. আবুল কালাম খন্দকার ও মো. নুরুল ইসলাম। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৫ থেকে ২২ শতাংশ।
সেলবরষ ইউনিয়নের ১১ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের সাইদুর রহমান চৌধুরী, মো. নুর হোসেন, নুরুল হুদা (মুকুল), দেনিয়ার হোসেন খান (পাঠান), আলাউদ্দিন শাহ, সুলতান উদ্দিন তালুকদার, সাব্বির আহমদ জনি, মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ নাজমুল হক এবং বিএনপির শামসুল আলম ও আলী আমজাদ। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির হার দেখানো হয়েছে ৪ থেকে ১৫ শতাংশ।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক, ১ জন বিএনপি সমর্থক এবং ১ জন স্বতন্ত্র¿ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. ফজলুর রহমান ফুল মিয়া, মো. হুমায়ুন কবির, রফিকুল বারি চৌধুরী বাচ্চু, মো. জাকির হোসেন ও মুহিত লাল তালুকদার মুন, বিএনপির মো. আব্দুর রহিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনা হেনা। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির হার দেখানো হয়েছে ৮ থেকে ২২ শতাংশ।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মোকারম হোসেন, আমানুর রাজা চৌধুরী, আলমগীর কবির, মোকাব্বির হোসেন  ও মো. শাহ্ জামান। বিএনপির সালাউদ্দিন ও মিজানুর রহমান খান। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৮ থেকে ২৩ শতাংশ।
মধ্যনগর ইউনিয়নের ৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে    ৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মোবারক হোসেন, পরিতোষ চন্দ্র সরকার, আব্দুর শহীদ আজাদ, কবির বিজয় তালুকদার (দেবল), মাহবুব আলম ফারুকী এবং বিএনপির মো. আবুল বাশার তালুকদার ও মো. আব্দুল কাইয়ুম মজনু। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির হার দেখানো হয়েছে ৭ থেকে ২২ শতাংশ।
চামরদানী ইউনিয়নের ৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রভাকর তালুকদার পান্না, জাকিরুল আজাদ মান্না, একেএম খসরুজ্জামান বাবলু ও মো আনোয়ার হোসেন সাগর এবং স্বতন্ত্র সম্ভাব্য প্রার্থী মো. হাদিস মিয়া। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ২৭ শতাংশ।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ৮ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. জামাল হোসেন মাস্টার, আইয়ুব আলী, মো. আবু সাইদ, সফিকুল ইসলাম সবুজ, মোহাম্মদ আলী পলাশ, আব্দুল খালেক এবং বিএনপির মো. নুর নবী তালুকদার ও মো. আনিসুল হক। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৮ থেকে ১৬ শতাংশ।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক, ৩ জন বিএনপির সমর্থক এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের আকরাম হোসেন, মো. সাইদুর রহমান, মো. সামিউল কিবরিয়া তালুকদার (শামীম) ও আজিম মাহমুদ,  বিএনপির মো. মাহবুব, মো. সুজন মিয়া, মো. রায়হান উদ্দিন সোহেল এবং সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেল আহমদ ও মো. মাহফুজ কাউছার হাসান। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৬ থেকে ১৭ শতাংশ।
জয়শ্রী ইউনিয়নের ১৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক, ২ জন বিএনপি সমর্থক এবং ১ জন স্বতন্ত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মাধব চন্দ্র সরকার, তোফাজ্জল হোসেন চানু, মোহম্মদ আলম, আব্দুল কাইয়ুম, নুরে আলম সিদ্দিকী, আককাছ মিয়া, মো. আনোয়ার হোসেন খান, আব্দুল মুকিত, গৌতম চন্দ্র সরকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, নিশি কান্ত সরকার (বুলু), বিএনপির ইকবাল হোসেন ও এমএ কামাল আজাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাব উদ্দিন। জয়শ্রী ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনমত যাচাইয়ে ভোটের হার উল্লেখ করা হয়নি রিপোর্টে।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপি সমর্থক এবং ১ জন উলামা লীগের সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. ফেরদৌসুর রহমান তালুকদার, মো. মোজাম্মেল হক ইকবাল, মো. রেহান উদ্দিন, মো. শাহজাহান মিয়া, শরিফ আহমদ (মামুন) ও হাফেজ জয়নাল আবেদীন, বিএনপির মো.শরিফুল ইসলাম, মৌজ আলী শাহ (আহলাদ মিয়া) এবং উলামা লীগের মো. শাকের হোসেন সাগর। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৪ থেকে ২০ শতাংশ।
তবে এই তালিকার বাইরে আরও কিছু প্রার্থীর নাম পাওয়া গেছে দলীয় দায়িত্বশীলদের নিকট থেকে। এছাড়া উপরে বর্ণিত কোন কোন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তারা।
এপ্রসঙ্গে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিছ বলেন,‘ দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ চলছে। সেলবরসে অ্যাড. আব্দুল হাই তালুকদার ও পাইকুরাটিতে পয়েল আহমদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে সেলবরষে ফেরদৌস দলে নবাগত, সে আগে বিএনপি করত। জয়শ্রীতে অ্যাড. দিলীপ সরকার ও ওয়াসিম তালুকদার, চামরদানীতে আলমগীর হোসেন, খোকন মিয়া ও এহসান আলী তালুকদার, বংশিকুন্ডা দক্ষিণে আব্দুস সালাম প্রচার-প্রচারণা করছেন, তবে সাইদুর রহমান দলে নতুন। রাজাপুর দক্ষিণে আমানুর রাজা আওয়ামী লীগের কেউ নন, মোকাব্বির হোসেন নবাগত। সেলবরষে আলাউদ্দিন, জয়শ্রীতে মোহাম্মদ আলম মুন্সি ও মধ্যনগরে মোবারক আগে বিএনপির রাজনীতি করছেন। দলে তারা নবাগত । ’
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদার বলেছেন, ‘সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে নাদিম কবির দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন’।
বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান ও সাধারণ সম্পাদক আলী আমজাদের সাথে কথা বলতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেন নি তারা।
বিএনপির একাংশের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী স্বপন বলেন,‘সেলবরসে শামসুল আলম বলেন বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। এই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আলী, আব্দুর রউফ, হাবিবুর রহমান, দিলোয়ার হোসেন। অন্যান্য প্রার্থীদের ন্যায় সুখাইড় রাজাপুর উত্তরে বশির আহমদ ও আল আমিন, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে নুরুজ্জামান, চামরদানীতে আব্দুল বারেক খন্দকার ও মোশারফ হোসেন, বংশিকুন্ডা উত্তরে বিল্লাল হোসেন , বংশিকুন্ডা দক্ষিণে আবুল কাসেম, জয়শ্রীতে গিয়াস উদ্দিন, সামছুল আলম, মুজিবুর রহমান মজুমদার ও বাবলুর হোসেন বাবলু, পাইকুরাটিতে মাহবুর মোরশেদ, হারুনুর রশিদ সরকার ও রতন আশরাফ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়নের জন্য আমাদের কাছে  লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। তবে সেলবরসের সম্ভাব্য প্রার্থী আলী আমজাদ ও জয়শ্রীতে ইকবাল হোসেন এখন আমাদের কাছে কোন আবেদন করেননি। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে, চূড়ান্ত করা হয়নি। ’