দিরাইকে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণার দাবি পর্যালোচনার অভিমত সভায়

স্টাফ রিপোর্টার, দিরাই
ভাটি বাংলা দিরাই কে বাল্য বিয়ে মুক্ত করা না গেলে কোনো ভাবেই মা ও নবজাতকের মৃত্যু হার শতভাগে উন্নীত করা যাবে না। মাতৃমৃত্যু শনাক্তকরণই বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা যত খুশী পর্যবেক্ষণই করেন সব ক্ষেত্রেই বাল্য বিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অতএব সবার আগে নদী ও হাওর বিধৌত ভাটি বাংলা দিরাই উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নকে সর্বাগ্রে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণা করতে হবে।
রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ আয়োজিত শতভাগ মা ও নবজাতকের মৃত্যু হার সনাক্তকরণে পর্যালোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক হাসিবুর রহমান ও মেডিকেল অফিসার কানিজ ফাতিমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কেয়ার জিএসকে’র প্রজেক্ট অফিসার তুলশী রানী ভৌমিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান তলুকদার   বলেন,‘আমরা ভাটি এলাকার মানুষ। এখানে মাতৃমৃত্যুর হার কত, শিশু মৃত্যুর হারই বা কত এ নিয়ে আমরা অন্ধকারে আছি। বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত হিসাব কোনো সময়ই আমাদের অবহিত করা হয় না। সারা দেশের গড় হিসাবের আলোকে আমাদের এ অঞ্চলের হিসাব মেলানো হয় বলে মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুর সঠিক তথ্য আমরা পাই না। তিনি বলেন, আমরা যদি সমস্যাই না জানি তাহলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করবো কিভাবে’ ?
বাল্য বিয়েকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন,‘যারা বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন সেই কাজী সাহেবদের এবং যারা বিয়ে পড়ান সেই ইমাম ও পুরহিতদের নিয়ে আমরা বসেছি। দিরাইকে বাল্য বিয়ে মুক্ত করতে তারা সকলেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।’