দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই সরকারি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের শিক্ষকের ওপর হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিন দিনের কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিরাই সরকারি কলেজের রাগীব রাবেয়া ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ধীমান কীর্তুনিয়া এই ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারি অধ্যাপক আ ন ম শোয়েব চৌধুরী, প্রভাষত মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সন্দীপন দাস, কামরুল কবির, অঞ্জন দাস, রুনু রঞ্জন ভৌমিক প্রমুখ।
এসময় কলেজে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে উল্লেখ করে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই, আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছি। এসময় শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষকরা।
এদিকে হামলার ঘটনায় মেহেদী হাসান চৌধুরী ও কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক দাবিদার ছাত্রলীগ নেতা চন্ডিপুর গ্রামের আছাব উদ্দিনের ছেলে মারুফ আহমদ জয়কে প্রধান আসামী করে এবং বহিরাগতসহ আরও ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হামলার শিকার দিরাই সরকারি কলেজের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান পারভেজ।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পুরস্কার বিতরণ চলাকালীন সময়ে অতর্কিত সন্ত্রাসী কায়দায় অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠতে চাইলে আমি বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীগণ আমার উপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্যেশ্যে পরিকল্পিতকভাবে এ হামলা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দিরাই সার্কেল আবু সুফিয়ান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি, এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দিরাই সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল। কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক দাবিদার বিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এমপি বিরোধী বলয়ের ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহমদ জয় ও একই বলয়ের মেহেদীসহ বহিরাগত কয়েকজন আইসিটি শিক্ষক পাভেজ রহমানকে মারধর করে। এসময় তারা বেশ কয়েকটি পুরস্কারসহ চেয়ার ভাংচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করলে কলেজ প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতংকে হৈ হল্লোড় শুরু করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক দাবিদার অভিযুক্ত মারুফ আহমাদ জয় ছাত্রলীগের কেউ নয় উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি লিখন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন, যুগ্ম সম্পাদক জগজ্যোতি রায় জয় জানান, দীর্ঘদিন ধরে দিরাই কলেজ বা উপজেলায় কোন ধরনে অনুমোদিত বৈধ কমিটি নেই। ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করলে এর দায় ছাত্রলীগ নেবে না। শিক্ষকের উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এর পাশাপাশি আাইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।


