আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই, যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীগুলো পাহাড়ি ঢলের পানিতে এখন কানায় কানায় ভরপুর। নদীগুলোতে পানির চাপ বেশী থাকায় ফসল রক্ষা বাঁধের উপর চাপ পড়েছে। এতে যে কোন কোন বাঁধে ফাটল, কোনটিতে দেবে যাওয়া আবার কোনটিতে বাঁধের নীচের ফুলফা দিয়ে হাওরের ভিতরে পানি প্রবেশ করছে। এমন ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত হাওরের সকল বাঁধগুলো দেখভাল করে যাচ্ছেন।
শনির হাওরপাড়ের মারালা গ্রামের কৃষক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মিয়া হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলার সকল হাওরের ফসল অকাল বন্যায় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পর থেকে প্রতিটি হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে প্রাক্ষলনে বাঁশ পাইলিং ও বস্তা সেটিং ধরা হয়েছিল। যে কারণে বাঁধ নির্মাণের পর অন্য কোন ধরনের ঝঁুকি ছিল না।
উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক উপজেলা যুবলীগ আহবায়ক হাফিজ উদ্দিন বলেন, শনির হাওরের সাহেবনগর বাঁধ ও নান্টুখালী বাঁধটি খুবই ঝঁুকিপূর্ণ। এ দুটি বাঁধ মঙ্গলবার তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন পরিদর্শনে যান। তারা সাংবাদিদের জানান, জেলার সর্ববৃহৎ ধানের হাওর শনির হাওর। এ হাওরটি তাহিরপুর উপজেলা, জামালগঞ্জ উপজেলা ও বিশ^াম্ভরপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে।
অপরদিকে উপজেলার দ্বিতীয় বৃহৎ বোর ফসলী ধানের হাওর হলো মাটিয়ান হাওর। এ হাওরের ঝঁুকিপূর্ণ বাঁধগুলো হলো— ধরুন্দ বাঁধ, আলমখালি বাঁধ, বনুয়া বাঁধ ও আনন্দনগরের পূর্বাংশের বাঁধ। এ বাঁধগুলোতে সরজমিন মঙ্গলবার পরিদর্শনে যান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসান—উদ—দৌলা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিন, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী ইউনূছ আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরাজ শাহ ও সাংবাদিক বাবরুল হাসান ও শওকত হাসান।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, মঙ্গলবার তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পরিদর্শন করেছেন। বাঁধগুলোর বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। পানির ওভার ফ্লো (উপচে পড়া) যদি না হয় আল্লাহর রহমতে আর কোন ক্ষতি হবে না।


