হাওরে নির্ঘুম রাত কাটছে কৃষকের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
কোনোভাবেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কাটছে না ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার কৃষকদের। ক’দিন ধরেই একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভাঙার খবর হাওরপাড়ের কৃষকের স্বপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করেছে। কি দিন কি রাত, এখন যেন সবই সমান কৃষকের কাছে। বাঁধের ওপর ক্লান্ত শরীরে নিঘুর্ম রাত কাটছে তাদের। রাতদিন সার্বক্ষণিক হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ রক্ষা কাজ করে যাচ্ছেন কৃষকেরা। যে বাঁধেই কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে সে বাঁধেই কৃষকসহ জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় নানান শ্রেণি পেশার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছেন বাঁধ রক্ষায়। ক্রমাগত নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরপাড়ের কৃষকেরা দুর্বিসহ এক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন বাঁধ রক্ষায় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও রাতদিন বাঁধে ক্রমাগত সময় দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে চন্দ্রসোনার থাল হাওরের ৭৫ নম্বর প্রকল্পের ডুবাইল বরুণ কাইচ্ছা বাঁধ ভেঙে বোরো ফসল তলিয়ে যেতে শুরু করে। এ হাওরে ১৮৫ হেক্টর জমি রয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাঁধ ভেঙে যেভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তাতে ১৮৫ হেক্টর জমি কয়েক ঘন্টার মধ্যে তলিয়ে যেতে পারে। ৭৫ নম্বর প্রকল্পে ০.৫০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য ২২ লাখ ৮ হাজার ১৩০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ প্রকল্পের সভাপতি মো. নূরুল হুদা বলেন, ‘ভালোভাবেই কাজ করেছি। যে জায়গায় ভাঙার কথা সে জায়গায় ভাঙেনি। এগুলো (ভাঙা অংশ) ক্লোজার তাই এতে কিছু করার থাকেনা। বাঁশ, চাটাই দেওয়া হয়েছিল (যদিও তা দেখতে পাওয়া যায়নি।’
একইদিনে গুরমার হাওরের ১১৫ নম্বর প্রকল্পের অধীনে স্লুইসগেট দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এছাড়াও সোনামড়ল হাওরের ৫৪ নম্বর প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে জয়শ্রী ইউনিয়নের কয়রানী হাওরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ৫৪ নম্বর প্রকল্পে ০.২৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ মেরামতের জন্য ২২ লাখ ২ হাজার ৮৫৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পের সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘দুদিন ধরেই বাঁধটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে নয়, বাঁধ উপচে কয়রানী হাওরে পানি প্রবেশ করছে।’
গত সোমবার বিকেলে ধর্মপাশা কংস নদের পানি শয়তানখালী খাল হয়ে রুইবিল, কাইল্যানী, বুন্না, নয়াবিল ও ডুলিজার হাওরের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। পরে স্থানীয়রা ওই খালের নোয়াবন্দ—আবুয়ারচর গ্রামের মধ্যবতীর্ স্থানে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে বাঁধ দিয়ে তা প্রতিরোধ করে। অপরদিকে রাতেই সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রাম সংলগ্ন অরক্ষিত স্লুইসগেট হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকলে স্থানীয়রা তা প্রতিরোধ করে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, ‘বাঁধের কাজে অনিয়ম হওয়ায় এবং সঠিকভাবে তদারকি না করায় পানির সামান্য চাপে বাঁধগুলো ভেঙে যাচ্ছে। আর এরই সাথে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হচ্ছে। এখন এর দায় কে নেবে?’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার্ মুনতাসির হাসান বলেন, ‘কৃষকের ফসল রক্ষায় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।’