জয়ন্ত কুমার সরকার, দিরাই
দিরাই উপজেলায় আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি দিরাই উপজেলার রাজানগর-জাহানপুর ব্রীজের পাশে রাজানগর অংশে এক একর ভূমিতে গড়ে উঠছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। এর মাধ্যমে হাওর অঞ্চলের অন্যতম মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসী।
দেশীয় প্রজাতি মাছের ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। জেলার বিভিন্ন হাওর, নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশ ও দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে পূরণ করছে আমিষের চাহিদা, অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। স্থানীয়রা বলছেন, দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় এ প্রকল্পটি সফলতার মুখ দেখছে।
জনসাধারণ ও মৎস্যজীবীরা ড. জয়াসেন গুপ্তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এটি বাস্তবায়নের ফলে মৎস্য সম্পদ রক্ষা, উৎপাদন ও বিপণনে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। জেলেরা ও মৎস্যচাষীরা তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাবেন। এছাড়াও মৎস্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধিত হবে। মৎস্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং ও বিপণন কাজে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কাজে জড়িত মহিলাদের জন্য বর্ধিত হারে কর্মসৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা হবে।
জানা গেছে, প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প এলাকায় ২০২৫০ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন। যা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। তার উপর নির্মিত হবে ১৭ হাজার বর্গফুটের (দ্বিতল) মাল্টিপারপাস ভবন। প্রকল্পটিতে থাকছে ১৫ টন ক্ষমতা সম্পন্ন বরফ কল এবং ২০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন কোল্ড স্টোরেজ। এছাড়াও ৪ টি গ্রীণ হাউজ মেকানিক্যাল ড্রায়ার এবং ৪ টি সোলার মিনিগ্রীড চালিত ড্রায়ার স্থাপন। ২টি জেনারেটরসহ ১টি বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন স্থাপন রয়েছে প্রকল্পের পরিকল্পনায়।
আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের এর আউটপুট নির্ধারণ করা হয়েছে বছরে ৬ হাজার ৮শ’ টন মাছ স্বাস্থসম্মতভাবে অবতরণ ও প্যাকিং, ৪ হাজার ৫০ টন বরফ উৎপাদন। বছরে ৮১০ টন মাছ হিমাগারে সংরক্ষণ সুবিধা এমনকি ২৫২ টন নিরাপদ শুটকি মাছ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ মৎস্যজীবীরা বলছেন, আমরা শুধু এটি চালু হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছি। জীবন বাজি রেখে উত্তাল হাওরে মাছ ধরি। বেশিরভাগ সময়ই মাছের প্রকৃত মূল্য আমরা পাই না। সঠিক সময়ে মাছ পাইকারদের হাতে না পৌঁছাতে পারলে মাছ পচে গলে নষ্ট হয়। পাইকারা অনেক সময় আমাদের যথাযথ মূল্যও দেয় না।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ বললেন, হাওর এলাকায় একটি মৎস্যমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপিত হবে এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়াসেন গুপ্তা নিরলস পরিশ্রম করছেন। হাওর এলাকার মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষী ও সর্বোপরি মৎস্য সম্পদের উন্নতি সাধনে মৎস্যমঙ্গল কেন্দ্রটি অনন্য ভূমিকা রাখবে। মৎস্যজীবীরা উপকৃত হবে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছ থেকেও পরিত্রাণ পাবে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব। হাওর এলাকার মৎস্য সম্পদ রক্ষা, প্রক্রিয়াকরণ, বাজারজাতকরণে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে মাছ কেনাবেচা হবে। মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীরা সঠিক মূল্য পাবেন। হিমাগারে মাছ সংরক্ষণ করা হলে পচে যাওয়ার ভয় নেই। এর সম্পূর্ণ সুফল পাবে হাওরপাড়ের মৎস্যজীবীরা।
জেলা মৎস্য অফিসার সুনীল মন্ডল বলেন, হাওর এলাকায় পোস্ট হারভেস্ট লস এড়াতে এ অবতরণ কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখবে। সাধারণত এই এলাকার জেলেদের আহরণকৃত মাছগুলো পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। তাতে মৎস্যজীবীরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংগ্রহকৃত মাছগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে কোল্ডস্টরেজে সংরক্ষণ করা যাবে। সাধারণ ভোক্তারাও নিরাপদ মাছ পাবে।
দিরাই শাল্লার সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বলেন, দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মুখে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে জনগণের উপকারে আসবে। তিনি দিরাই-শাল্লাবাসীর কাছে অনুরোধ করে বলেন, এই প্রকল্পটি জনগণের কল্যাণে করা হচ্ছে। এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।


