দিরাই ধল উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধ স্থাপনা আগে ছিল মাছের আড়ৎ এখন ঝুপরি দোকান

টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাইয়ের ধল বাজারে দুটি স্কুলের সামনে অবৈধভাবে ঝুপড়ি দোকান বসিয়ে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও এ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম এলাকা ধল বাজারের একপাশে অবস্থিত ধল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ধল উচ্চ বিদ্যালয় গেটের কিছু অংশে সীমানা প্রাচীর থাকলেও বাকী অংশ খোলা। স্কুল দু’টোর সামনে গড়ে উঠেছে ৬/৭ টি ঝুপড়ি দোকান। পাশেই আধপাকা আরও ৫/৬ টি দোকান ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব দোকান ঘর নির্মাণ করছেন ধল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই পাশে ৩ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া নিয়ে টিনশেড একটি ঘরে কাঠমালের দোকান চালু করেছেন সরালীতোপা গ্রামের প্রাক্তন ইউপি সদস্য সহিদ মিয়া।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, স্কুল  ফটকের সামনে এসব দোকানে  বেকার তরুণ যুবকরা নানা অজুহাতে সময়ে-অসময়ে ভিড় জমায়। এসব দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় ইভটেজাররা ছাত্রীদের টিটকারী মারে, শিষ দেয়। এ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটানোর লক্ষ নিয়ে যে কেউ এসব দোকানে ওত পেতে থাকতে পারে। এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে ছাত্রীদের মাঝেও। ঝুপড়ি দোকানের ব্যবসায়ি আমিরুল ইসলাম জানান, স্কুলের পিয়ন নাছির প্রতিটি  ঝুপড়ি দোকান থেকে ২০০ টাকা করে মাসোহারা তুলেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বায়েছ মিয়া বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো ভাবেই ব্যবসার কেন্দ্রস্থল হতে পারে না। যারা স্কুলের ফটকের সামনে দোকান কোঠা বসিয়ে মাসোহারা নেন, তাদের কাছ থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কি শিক্ষা পাবে বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। প্রাক্তন ইউপি সদস্য কবির মিয়া বলেন, বছর খানেক আগে স্কুলের সামনে মাছের আড়ত বসানো হয়েছিল। পঁচা মাছের দুর্গন্ধে স্কুলের পরিবেশ লেখা-পড়া ও খেলা-ধুলার অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল। সচেতন অভিভাবকদের বাধা-নিষেধের কারণে তা স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাতে বাধ্য হন। এখন ওই জায়গায় টিনসেড ঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শামছুল হক বলেন, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। উপরন্তু নতুন করে আরও অবৈধ দোকান ডাল-পালা ছড়াচ্ছে। এলাকার মুরুব্বি ময়না মিয়া বলেন, স্কুলের উন্নয়নের নামে দোকান ভাড়ার অর্থ মূলত ব্যক্তির পকেটে ঢুকছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই। ধল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিত তালুকদার বলেন, ঝুপড়ি দোকান থেকে কারা মাসোহারা তুলছে তা আমার জানা নেই। আমরা শুধু স্কুল সীমানার মধ্যে ৪/৫ টি দোকান কোঠা নির্মাণ করছি। অর্থাভাবে  কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ৩ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে দোকান ভাড়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।