দিরাই শাল্লায় উপ নির্বাচন-শীর্ষ পছন্দ ড. জয়া সেন

বিন্দু তালুকদার ও আবু হানিফ চৌধুরী
দিরাই-শাল্লার সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রায় পাঁচ দশকের দূর্গ সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের রক্ষক কে হচ্ছেন। তফসিল ঘোষণার পর সোমবার দিনভরই ছিল দিরাই-শাল্লায় এই আলোচনা।
আগামী ৩০ মার্চ এই আসনের নির্বাচন, মনোনয়ন জমা দেবার তারিখ ২ মার্চ, যাচাই-বাছাই ৫-৬ মার্চ, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ মার্চ। সোমবার দিরাই-শাল্লার উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন ৭ নেতার ৪ জনই বলেছেন,‘সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্ত্রী জয়া সেন গুপ্তকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার সঙ্গেই থেকে নির্বাচন করবেন তাঁরা।’
এদিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর থেকেই সুনামগঞ্জসহ দেশ-বিদেশের উৎসুক মানুষ জানতে চাচ্ছেন তাঁর নির্বাচনী আসনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) কে হচ্ছেন পরবর্তী নেতা।
যদিও দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভা করে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন পাঠানোর কথা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন। শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও গণমাধ্যমে একই ধরণের মন্তব্য করেছেন।
এলাকার আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও ইতোমধ্যে দাবি তুলেছেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্ত রাজনীতির হাল ধরবেন। যদিও ড. জয়া সেনগুপ্ত ও তাঁর ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত এখনও স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তাঁর বাবার অবর্তমানে তাদের অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বা তাঁর মা দিরাই-শাল্লায় নির্বাচন করবেন কিনা তার সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কোন সিদ্ধান্ত নেই।
এদিকে গতকাল সোমবার উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই দিরাই-শাল্লার উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির করছেন অনেকেই। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন কয়েকজন নেতা।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে, তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, দিরাইয়ের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শহীদ তালেব উদ্দিনের ভাই সিলেট মহানগর        
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. শামছুল ইসলাম, দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র দিরাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী সদস্য দিরাই উপজেলার বাউশি গ্রামের বাসিন্দা ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন ও উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামছুল হক চৌধুরী।
যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ব সামছুল হক চৌধুরী বলেন,‘ আমি গত নির্বাচনেও দিরাই-শাল্লা থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আমি এবারের উপ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তবে দল থেকে অন্য কাউকে দেয়া হলে আমি দলের সাথেই থাকব।’
যুক্তরাজ্য আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন বলেন,‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে আমি শোকাহত। তিনি ছিলেন আমার শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি। তাঁর অবর্তমানে আমরা তার স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তকে দিরাই-শাল্লার অভিভাবক হিসাবে দেখতে চাই। উপনির্বাচনে আমরা ড. জয়া সেনগুপ্তকেই প্রার্থী চাই। ঐকব্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চাই। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চূড়ান্ত।’
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অতিরিক্তি পিপি অ্যাড. শামছুল ইসলাম বলেন,‘আমি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাথে মাঠে কাজ করেছি। প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রেখে যাওয়া কাজ করতে দিরাই-শাল্লায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তবে দলের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রীকে মনোনয়ন প্রদান করেন তাহলে উনার সাথেই কাজ করব। ’
দিরাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান বুলবুল বলেন,‘আমি সেনদার রেখে যাওয়া আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী নই। আমার কর্মী-সমর্থকরা নানাভাবে এসব কথা বলেন। সেনবাবুর একজন কর্মী হিসাবে তাঁর পরিবারের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমরা চাই সেনবাবুর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকা তাঁর সুযোগ্য স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্ত এই আসনে স্বামীর হাল ধরবেন। তিনিও সেনবাবুর মতো দলের নেতকর্মীদের মাতৃ¯েœহে দেখবেন। দলীয় নেতাকর্মীরা ড.জয়া সেনগুপ্তের কাছ থেকে সুখে দুঃখে সব ধরণের সহযোগিতা পাবেন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘আমরা সবাই চাই প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রেখে যাওয়া নির্বাচনী মাঠ দিরাই-শাল্লার নির্বাচনী আসনে তাঁর পরিবার থেকেই  কেউ যেন দলীয় প্রার্থী হন।’
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের কাছে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।