শেষ হচ্ছে না ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল ভবনের কাজ

শহীদ নূর আহমেদ
গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের  ৮ তলা ভবন নির্মাণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বছর পার হয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি কাজ। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত  ১ বছর বাড়তি সময় পেলেও কাজ শেষ হওয়ায় কোন আলমতই দেখা যাচ্ছে না। বাকি ৪ মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়ম ও কাজ তদারকী এবং সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বহীনতার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  নানা অজুহাত দেখিয়ে মাঝে মধ্যেই বন্ধ রাখছেন নির্মাণ কাজ। গুটিকয়েক শ্রমিক দিয়ে কচ্ছপ গতিতে করা হচ্ছে নির্মিত ৭ তলা ভবনের অভ্যন্তরীণ টুকিটাকি  কাজ।
নির্মাণাধীন কাজের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ- সহকারি প্রকৌশলী আরব আলীকে ৩ দিন গিয়েও কর্ম এলাকায় দেখা যায়নি। ভবনের কাজে থাকা শ্রমিকরাও তিনি আসবেন কী-না জানাতে পারেনি।
২০১৪ সালে মার্চ মাসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ (অপি) প্রকল্পে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয় আরো এক বছর বাড়তি সময়। ৮ তলা ভবনের কাজের টেন্ডার পায় জামাল এ- ইসরাম নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের ৭ তলা পর্যন্ত মূল ভবনের দৃশ্যমান কাজ শেষ হয়েছে।  ৮ম তলায় আইসিইউ ও সিসিউ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ স্থাপন করার কথা থাকলেও এখনও  বাকি রয়েছে ৮ম তলার কাজ। সম্পন্ন হওয়া ৭ম তলার অভ্যন্তরীণ কাজের অধিকাংশ কাজই বাকি রয়েছে। নিচতলার মেঝের কাজ শেষ হয়নি, লাগানো হয়নি সিঁড়ির টাইলস, বিদ্যুৎ সংযোগের ওয়ারিং, সম্পন্ন হয়নি, শেষ হয় নি টয়লেটসহ ভেতরের দরজার কাজ, পুূর্ণাঙ্গ হয়নি ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ, লিফট বসানোর কোন কাজ শুরু হয়নি। হয়নি পানি সরবরাহের কাজ, মূল সড়ক থেকে প্রবেশদ্বার পর্যন্ত সংযোগ রাস্তায়ও কোন কাজ হয়নি। গ্যাস সংযোগও হয়নি। ৮ম তলা সম্পন্ন না হওয়ায় বসানো হয়নি পানির ট্যাঙ্ক। কাজের এমন কচ্ছপ গতিতে সময়মত ভবন হস্তান্তর না করায়  পুরাতন ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনে বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা ও আবাসিক সুবিধা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কাজের এমন অবস্থায় সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষ দায়ী করেছেন গণপূর্ত বিভাগকে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চাহিদা বেড়েছে সেবার, অথচ. চাহিদা অনুপাতে আবাসিক ব্যবস্থা ও মানসম্মত চিকিৎসা দিতে পারছি না আমরা। ৩ বছর পূর্বে  ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ শুরু হলেও হস্তান্তর মেয়াদের বছর পার হলেও গণপূর্ত বিভাগ এখনও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে উদাসীনতা রয়েছে তাদের।’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন,‘নতুন ভবনটি হস্তান্তরের জন্যে গণপূর্ত বিভাগকে বিনয়ের সহিত তাগাদা দিচ্ছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিচ্ছেন জুলাইয়ের মধ্যে ভবনটি আমাদের হস্তান্তর করবেন। কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। বাড়তি সময়ের ভিতরে কাজ সম্পন্ন হবে কী- না, এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
কাজের অগ্রগতি ও হস্তান্তর সম্পর্কে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর সিদ্দিকি বলেন,‘হাসপাতাল ভবনটি প্রথমে ৭ তলার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গ্যাস সিস্টেমসহ ৮ম তলার ৫০ ভাগ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়। আমরা আশা করছি ২০১৭’এর মধ্যে কাজ শেষ হবে। এই বিষয়ে আমাদের কোন উদাসীনতা নেই’।