দিরাই-শাল্লা-ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সুরঞ্জিত-নাসির বেকায়দায়

টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাই-শাল্লায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন দুই বর্ষিয়াণ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী। দিরাই-শাল্লায় গত প্রায় দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন জমে উঠে ক্যারিশমেটিক এই দুই রাজনীতিককে ঘিরেই। দলীয় পরিচয়ের  চেয়ে সুরঞ্জিত-নাছিরের পরিচয়ে বা সমর্থিত প্রার্থী-ই এখানে ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্ব পায়। তবে এবারের ইউপি নির্বাচনে একাধিক ইউনিয়নে উভয়ের ঘনিষ্টজনের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেওয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ে বেকায়দায় ভাটি অঞ্চলের ভোট মাস্টার হিসেবে পরিচিত ডাকসাইটে রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও নাছির উদ্দিন চৌধুরী।  দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নির্বাচন ৫ম ধাপে, ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দলেরই অনেক ইউনিয়নে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিদ্রোহ হয়েছে এসব ইউনিয়নে এবং দলের প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বিদ্রোহীরা।
দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার। এখানে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি শাজাহান সরদার। বিএনপির একক প্রার্থী আব্দুর রহিম প্রচারনায় সুবিধা পাচ্ছেন। কুলঞ্জে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া দলীয় মনোনয়ন পেলেও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৩ জন। অবশ্য. বর্তমান চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ইউনিয়নে বিবিয়ানা মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পবিত্র মোহন তালুকদারও ব্যাক্তি ইমেজ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পড়েছেন কঠিন চ্যালেঞ্জে।   
একইভাবে তাড়ল ইউনিয়নে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে,একেবারে নতুন মুখ আলী আহমদকে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদার এবং দলীয় নেতা আব্দুল কুদ্দুস।
ভাটিপাড়া ইউনিয়নে আফজাল হোসেন  বিএনপির মনোনয়ন পেলেও আরেক দলীয় নেতা বেলাল আহমদ প্রার্থী হয়েছেন।  
জগদল  ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দিতে তৃণমূল থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন রশীদকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সালাম নিজে প্রার্থী না হয়ে তার ঘনিষ্টজন উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শিবলী আহমেদ বেগকে সমর্থন দিয়ে দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই তার পক্ষে কাজ করছেন। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থী যাকে দেয়া হয়েছে নেতা কর্মীদের বেশিরভাগেই তাঁর সঙ্গে নেই।   
রফিনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজুয়ান হোসেন খাঁন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আল মামুন,  যুবলীগ নেতা বিকাশ রঞ্জন তালুকদার ও মহসিন রেজা।
একইভাবে ভাটিপাড়া ইউনিয়নে স্থানীয় আওযামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান কাজীকে প্রার্থী চেয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা এখানে শাজাহান কাজীকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেশ চন্দ্র চৌধুরী’র নাম পাঠালেও এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আবুল কাশেম আজাদকে। এই ইউনিয়নে বিদ্রাহী প্রার্থী হয়েছেন নরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও কাজল বরণ চৌধুরী।
একইভাবে তৃনমূলের সমর্থন থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে শাল্লা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরী। তাঁর (আবুল লেইছ চৌধুরী’র) অভিযোগ এখানে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার বাবা ছিলেন, মক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।
আটগাঁও ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল্লা আল- নোমান। তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনোনয়ন না পেয়ে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
গত কয়েক মাস হয় শারিরিক অসুস্থতার কারণে স্বশরিরে  দিরাই-শাল্লায় এসে দলীয় কর্মীদের সময় দেওয়া বা বিভেদ মেটানোর কাজ না করতে পারলেও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছেন এবং প্রয়োজনে ঢাকায় ডেকে নিয়েও দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতা কর্মীরা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন অর্থাৎ ১২ মে’র পরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রে জানানো হবে, পরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
দিরাই পৌরসভার মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মোশারফ মিয়া বলেন,‘প্রার্থীতা প্রত্যাহারের তারিখের পর মাননীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।