দুই ইউপি’র সীমান্ত সড়কের পাকাকরণ দাবি

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্তে আলহাজ্ব মতিউর রহমান কলেজে আসা-যাওয়ার বাইপাস সড়ক। সড়কটির দক্ষিণের অংশ নুর ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত সুরমা ইউনিয়নে এবং কাজল মিয়ার বাড়ি থেকে উত্তরের অংশ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে। দুই ইউনিয়নের সীমান্তে সড়কের বিস্তৃতি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ হচ্ছে না। এই কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে যাচ্ছে এবং একাধিক স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়ক ভেঙে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সড়কের পাকাকরণ দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, আলহাজ্ব মতিউর রহমান কলেজে আসা-যাওয়ার একটি সড়ক রয়েছে হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা মুল সড়ক থেকে ভৈষারপাড় গ্রাম হয়ে কলেজ পর্যন্ত। অপরটি মঙ্গলকাটা বাজারে আসা-যাওয়ার মুল সড়কের পাশে ব্র্যাক অফিসের সামনে থেকে বাইপাস সড়ক হিসাবে আলহাজ্ব মতিউর রহমান কলেজ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। এই সড়কের উপর রয়েছে দুইটি কালভার্ট সেতু। দীর্ঘ ৩০ বছর আগে থেকে গ্রামের সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য একাংশ সড়ক মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এই বাইপাস সড়কে মাটি ফেলে কলেজ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পাকাকরণ না হওয়ায় ক্রমান্বয়ে মাটি সরে সড়ক নষ্ট হতে চলেছে। বর্ষায় সড়কটি প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। তখন শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে পরনের কাপড় ভিজিয়ে এবং সাঁতরে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। কারণ মঙ্গলকাটা এলাকায় নৌকা ব্যবহারের প্রচলন নেই।
এই বাইপাস সড়ক দিয়ে অতি সহজে প্রতিদিন মঙ্গলকাটা, দলাইপাড়, কদমতলী, ঢালারপাড়, মীরেরচর, আমপাড়া, চিনাকান্দি, ইসলামপুর, খাগেরগাঁও, রংপুর, বনগাঁও ইত্যাদি এলাকার শত শত শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে থাকেন।
কলেজ শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, আবু তালেব, ফাহিম আহমদ, রোকেয়া আক্তার, রাজিয়া আক্তার, রুমি আক্তার জানান, এই বাইপাস সড়কে চলাচল করলে অল্প সময়ে সহজে এবং নিরাপদে কলেজে আসা যায়। ভৈষারপাড় গ্রামের সড়কে আসা-যাওয়া করলে সময় বেশি লাগে এবং গাড়ি ভাড়াও লাগে। এই বাইপাস সড়কটি বর্ষায় ডুবে যায়। এলাকায় নৌকার প্রচলন না থাকায় নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় আমাদের। তাই সড়ক পাকাকরণ খুবই দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুছ সালাম, ফিরোজ মিয়া, মন্টু মিয়া, কাদির মিয়া, আব্দুছ সাত্তারসহ অনেকে জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় প্রায় ১০ বছর আগে। সেই সাথে এই বাইপাস সড়কে মাটি ফেলে কলেজ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। শুকনা মওসুমে মানুষ চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। এই বাইপাস সড়কটি দুই ইউনিয়নের সীমান্তে পড়ায় নানা অবহেলায় সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রতি বছর মাটি সরে যাচ্ছে সড়কের। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করেন। তাই সড়কের টেকসই উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীরনগর ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিব বলেন,‘আমার ইউনিয়নের অংশে থাকা মতিউর রহমান কলেজ সড়কের পাকাকরণের জন্য আবেদন করেছি।’
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,‘মতিউর রহমান কলেজ সড়কের পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু পাকাকরণ কাজের ব্যবস্থা করে থাকেন সদরের এমপি মহোদয়।’