সু.খবর ডেস্ক
প্রধান বিচারপতি ও বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে দুই মন্ত্রীকে দেয়া সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার দায়ে গত ২৭ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদ- দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার ৫৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত। এরইমধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেন, মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন দুই মন্ত্রী। তাদেরকে জরিমানার অর্থ সাত দিনের মধ্যে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলা হয়। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তারা।
গত ৫ মার্চ রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ এক গোলটেবিল আলোচনায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেন দুই মন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রধান বিচারপতি পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মীর কাসেমের আপিলের পুনঃশুনানির দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। প্রধান বিচারপতি তার আসনে থাকতে চাইলে ‘অতিকথন’ বন্ধ করা উচিত বলে পরামর্শ দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক।
দুই মন্ত্রীর ওই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর গত ৮ মার্চ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দুই মন্ত্রীকে ১৫ মার্চ আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করেন এবং ১৪ মার্চের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।
সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের পর দুই মন্ত্রীর পক্ষে গত ১৪ মার্চ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নোটিশের জবাব দাখিল করা হয়। পরদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আদালতে উপস্থিত হলেও দেশের বাইরে থাকায় হাজির হতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী। ওই দিন আইনজীবীর মাধ্যমে খাদ্যমন্ত্রীর করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২০ মার্চ ফের দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ।
পরে ২০ মার্চ সকালে আদালতে হাজির হন দুই মন্ত্রী। ওই দিন আপিল বিভাগ খাদ্যমন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন এবং ২৭ মার্চ দুই মন্ত্রীকে আবারও হাজিরের নির্দেশ দেন। এ কারণে গত ২৪ মার্চ ফের নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানান খাদ্যমন্ত্রী।
এরপর ২৭ মার্চ সকালে আপিল বিভাগে ফের হাজির হন দুই মন্ত্রী। শুনানি শেষে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা দুই মন্ত্রীর আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদ-ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
- বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ‘সীমান্ত ব্যাংক’
- দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩ দিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন


