আকরাম উদ্দিন
বেকারত্ব দূরীকরণ এবং সৌখিন ব্যবসা হিসাবে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে গড়ে উঠেছে শত শত গরুর খামার। দেশি ও বিদেশী গরুর খামার গড়ে তোলতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন খামারীরা।
বর্তমানে শহরের বিভিন্ন স্থানে ৯টি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিটি খামারে ৫টি থেকে ৫০টি গরু রয়েছে। শহরের খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ শত লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। এই দুধ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো ক্রেতা খামার থেকে কিনে নেন এই দুধ। আবার কেউ বাসায় বাসায় নিয়ে বিক্রি করেন। কেউ আবার বিভিন্ন পয়েন্টে দুধ বিক্রি করেন।
জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সারা জেলায় গরুর খামার রয়েছে ৫৩৬টি। তবে সুনামগঞ্জ ডেইরি ফার্মারস এসোসিশেনের হিসাব অনুযায়ী তাদের সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত আছে ৩৫২টি গরুর খামার। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন ১টি খামার থেকে আনুপাতিক হারে ১৫ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এই হিসাবে প্রতিদিন ৫২৮০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে জেলায়। কিন্তু জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দৈনিক ৮০৪০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে।
খামারীরা জানান, দুধ উৎপাদন সক্ষমতা আরো বেশি। ষাড় বা গাভীর সঠিক যতœ নেয়ার ফলে ক্রমশ: এই সফলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি খামারে দেশী গরুর পাশাপাশি বিদেশী ফ্রিজিয়ান, ক্রসভিট, অস্ট্রেলিয়ান, সিন্দি, শাহী ওয়াল, জার্সি জাতের গাভী রয়েছে। বিদেশী প্রতিটি গরুর মূল্য দেড় লাখ টাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামের পাশে সোহাগ দুগ্ধ খামারে গিয়ে কথা হয় খামারের মালিক দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়ার সাথে। তিনি জানান, আমি ২০১৫ সালে পুরাতন জজ কোর্টের দক্ষিণ পাশে জেলা প্রশাসকের খতিয়ানের জায়গায় ১টি গরু দিয়ে ফার্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। তখন একটি গরুটি ২৮ হাজার টাকায় ক্রয় করি। বর্তমানে আমার ফার্মে ৫০টি গরু ও বাছুর রয়েছে। এখন ১৭টি গাভী দুধ দেয়। প্রতিদিন ৪০-৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। প্রতি লিটার দুধ ৯০ টাকা হিসাবে বিক্রি করি। আমার ফার্মের দুধ ফার্ম থেকে কিনে নেন সবাই। এই দুধ প্রতিদিন শহরের বিশিষ্টজনেরা কিনে নেন। এখন আমার ফার্মে ষাঁড়ও আছে।’
কথা হয় শহরের নবীনগর ধোপাখালি এলাকায় এ.আর. ডেইরি ফার্ম এর মালিক মো. মমিনুল হকের সাথে। তিনি জানান, আমার ফার্মে ১৪টি গাভী গরু আছে। প্রতিদিন ৩০-৪০ লিটার দুধ উৎপাদন করা যায়। এই দুধ শহরের বিভিন্ন স্থানে আমি বিক্রি করি।
এরপর কথা হয় শহরের শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় বশির মিয়ার খামারের সংরক্ষক মো. সোহেল মিয়ার সাথে। তিনি জানান, গত ৩ মাস আগে খামার গড়ে তুলেছি। আমাদের খামারে বর্তমানে ৫টি গাভী গরু আছে। আছে ৫টি বাছুরও। সব গরু অস্ট্রেলিয়ান। প্রতিদিন ৫টি গাভী থেকে প্রায় ২৫ লিটার দুধ উৎপাদন করা হয়। এই দুধ বাসায় বাসায় নিয়ে বিক্রি করি আমি।
কথা হয় মিতা দুগ্ধ খামারের মালিক কাউন্সিলর সুজাতা রানীর সাথে। তিনি জানান, আমার খামারে বাছুর সহ ১৩টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে ৩টি গাভী ১৮ লিটার দুধ দেয়। এই দুধ শহরের মানুষে কিনে নেন। প্রতি লিটার দুধ ১০০ টাকা করে বিক্রি করি।
এছাড়াও শহরের আলীপাড়ায় আয়ান ডেইরি ফার্ম, পাঠানবাড়ি এলাকায় কোয়ালিটি ডেইরি ফার্ম, কালীপুর হাওর ডেইরি ফার্ম, হাছননগরে ইবান রাজা’র ১টি খামার ও ইউসুফ মিয়ার ১টি খামার রয়েছে।
সুনামগঞ্জ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সভাপতি আলমগীর জলিল বলেন, আমার ফার্মের নাম মায়ের দোয়া এগ্রো ফার্ম। এই ফার্মটি কাঠাখালি চরগাঁও। আমি দেড় বছর আগে ২টি অস্ট্রেলিয়ান গরু দিয়ে ফার্ম গড়ে তুলি। এখন আমার ফার্মে গরু আছে ৭টি, বাছুর আছে ৩টি। ২টি গাভী দুধ দেয়। প্রতিদিন ১৬ লিটার দুধ উপাদন করি। এই দুধ ৫০ টাকা লিটার হিসাবে বাজারে বিক্রি করি। আমরা দুধের ন্যায্য মূল্য পাই না।’
সুনামগঞ্জ ডেইরি ফার্মারস এসোসিশেনর তাহিরপুর উপজেলার সভাপতি ধুতমা গ্রামের জুবায়ের এন্ড নাফি ডেইরি ফার্মের মালিক এনামুল হক এনাম বলেন,‘আমি ২ বছর যাবত গরুর খামার করে আসছি। আমার খামারে ২০টি গাভী আছে। ৯টি গাভী দুধ দেয়। প্রায় ৪০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা ডেইরি ফার্মারস এসোসিশেনর সভাপতি মো. নুরুল আলম জানান,আমাদের সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৩ বছর যাবত খামার গড়ে তোলার আগ্রহ বেড়েছে খামারীদের। আমরা সংগঠন গড়ে তুলেছি। একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সহজ হয়। সম্পর্কও জোরদার হয়। নানা সমস্যায় একে অপরকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করি। আমাদের ফার্মের ক্ষতির কারণ হচ্ছে ভারতীয় গরু। এই ভারতীয় গরু নানা রোগ ব্যাধি নিয়ে আসে। এতে আমাদের গরু আক্রান্ত হয়। এই সমস্যা দুর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা চাই।
- ছাতকে বাংলা সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনা সভা ও লেখা পাঠের আসর
- স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৭ তম জন্মোৎসব পালিত


