স্টাফ রিপোর্টার
হাওরাঞ্চলের কোথাও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ হয়নি। জেলা উদীচী দিনব্যাপি প্রতিবাদী গানসহ দ্রোহের-প্রত্যয়ের-ঘৃণার নানা কর্মসূচি পালন করেছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি সীমিত আকারে বর্ষবরণের আয়োজন করলেও হাওরের ফসল ডুবি, বাঁধ নির্মাণে পাউবো, ঠিকাদার ও পিআইসির অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে সকল অনুষ্ঠানেই।
জেলা প্রশাসন প্রতিবছরের নির্ধারিত বর্ষবরণের র্যালিসহ, ইলিশ-পান্তা খাওয়ার আয়োজন করেনি।
জেলা উদীচী সকাল থেকে ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেছে। অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এই আয়োজনে একাত্মতা পোষণ করছে।
পাউবো’র ঠিকাদার ও পিআইসি কর্তৃক হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ফসল তলিয়ে গেছে। এ কারণে জেলাব্যাপী হাহাকার শুরু হওয়ায় বর্ষবরণ উৎসব করেনি বিভিন্ন সংগঠন।
জেলা উদীচী’র পক্ষ থেকে নতুন কাপড় না পড়ার ঘোষণা দেওয়ায় বর্ণাঢ্যতা ছিল না এই সংগঠনের অনুষ্ঠানে। সকাল থেকে ঐতিহ্য যাদুঘর প্রাঙ্গণে জেলা উদীচী প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু করে। এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন জেলার সর্ববৃহৎ দেখার হাওর পাড়ের বর্গচাষী সিরাজ মিয়া। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে সকাল থেকে অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে ছিল কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি।
জেলা উদীচী’র সভাপতি শীলা রায়’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় উদীচীর অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন- জাওয়ার হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষী মো. মুজিবুর রহমান, নলুয়ার হাওর পাড়ের বর্গাচাষী বিকেশ দাস, শহরতলির হুরুয়া বিলের পাড়ের বর্গাচাষী জাহির আলী, কচুয়া নদীর উত্তর পাড়ের বর্গাচাষী মকবুল হোসেন, জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ, সাংবাদিক পঙ্কজ দে, জেলা কালচারাল কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল, রাজনীতিবিদ রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন প্রমুখ।
উপস্থিত কৃষক তাঁদের শ্রমে-ঘামে-ঋণ করে আনা টাকায় ফলানো ফসল ডুবার কষ্টের বর্ণনা দেন। আলোচনা সভার পর উদীচী’র কর্মীদের সহায়তার টাকা (নতুন কাপড়ের টাকা) তুলে দেওয়া হয় কৃষকদের হাতে।
শেষে দুর্র্নীতিবাজ পাউবো-ঠিকাদার ও পিআইসি’র প্রতীকী কুশপুত্তলিকায় থু থু নিক্ষেপ করেন কৃষক-জনতা। দিনভর এই অনুষ্ঠানে কেবল প্রতিবাদী কবিতা, নাটক ও গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে।


