দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিতে হবে আওয়ামী লীগকেই

কর্মীদের সততার সাথে চলার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। সততার সাথে চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন দলীয় সভানেত্রী। দেশে যখন দুর্নীতি নামক মহাব্যাধিটি শিকড় গেঁড়ে জাঁকিয়ে বসেছে; আমলা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ঠিকাদার সকলেই যখন অবৈধ পথে টাকা রোজগারের ধান্দায় ব্যস্ত তখন প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বান তাৎপর্যম-িত। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই অনুধাবন করেছেন যে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আন্দোলন-সংগ্রামের উজ্জ্বল সংগঠন আওয়ামী লীগ আজ কিছুটা হলেও দুর্নীতির কারণে শ্লথ হয়ে পড়েছে। দলীয় প্রধান এবং একইসাথে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকারের নির্বাহী প্রধান হওয়ার কারণে প্রচ- ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁকে। সকল খবরাখবর তাঁর কান অব্ধি পৌঁছায়ও না। এই সুযোগে দলের সুযোগসন্ধানী কিছু ব্যক্তি দুর্নীতির মহোৎসবে যোগ দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন। সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ প্রকাশ্যেই উঠে এসেছে। উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারির ভাগ বণ্টনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আওয়ামী নামধারী ব্যক্তিরাই সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছেন। তাঁরা যে সর্বক্ষেত্রে শতভাগ কাজ করে দিচ্ছেন সেটিও হলফ করে বলার উপায় নেই। বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে দেয়ার জন্য লেনদেনের বিষয়টি ওপেনসিক্রেট আমাদের দেশে। কেউ একজন কোন পদ-পদবি বাগাতে পারলে আলাদিনের জাদুকাঠির স্পর্শে যেন তার সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠে। এই অবস্থায় বর্তমান বাংলাদেশে সবচাইতে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে রাজনীতি। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে জনগণের সাথে সংগঠনের যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে সেই বোধ নেই অধিকাংশ নেতার। আজ আওয়ামী লীগ অনেক ঝুঁকি নিয়ে বহু অসম্পন্ন কাজ শেষ করছে। যুদ্ধাপরাধ বিচারের মতো অতি স্পর্শকাতর কাজ শেষ করছে এই সংগঠনের নেতৃত্বাধীন সরকার। দেশ আজ জঙ্গীবাদের যে হুমকির সম্মুখীন সেখান থেকেও দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছেন। এমন কঠিন সময়ে দলের মধ্যে কঠোর আদর্শনিষ্ঠতা, সুগভীর একতাবোধ, জাতির প্রতি নিবেদিত মনোভাব এমনসব গুণের সমাহার ঘটানো ছিল একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউ মনে করবেন সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী যেন মৌতাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরকম আয়েশি চলাফেরা দলকে জনবিচ্ছিন্ন ও সমর্থনহীন করে যে চরমভাবে গর্তের কিনারায় ফেলে দেয়ার নামান্তর সেই বোধটিও আজ অনুপস্থিত। এরকম অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সততার পথে চলার আহ্বানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিনি যেরকম জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখানো সহ উন্নয়ন কাজে ব্যাপক গতিসঞ্চার করেছেন, এখন আমরা দেখতে চাই তাঁর দুর্নীর্তিবিরোধী কঠোর অবস্থান। শুধুমাত্র দুর্নীতিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারলেই দলের অবস্থা যেমন সংহত হবে তেমনি দেশের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করে। দেশের নির্বাহী বিভাগের শীর্ষে অবস্থান করেন রাজনীতিকরা। সুতরাং যেকোনো দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে রাজনীতিকদের ভূমিকাই অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখে। রাজনীতিকরা সততা বজায় রাখলে আমলাদের দুর্নীতি হ্রাস পেতে বাধ্য। আর দুর্নীতি যদি বর্তমান পরিমাণের অর্ধেকও হ্রাস পায় তাহলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের গ-ি পেরিয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে খুব বেশি দিন লাগার কথা নয়। বাংলাদেশের সর্বত্র আজ আন্দোলন হিসাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ব্যাপকমাত্রায় শুরু করা হোক এই আমাদের কামনা। এটি শুরু হতে হবে একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে, নিয়ে যেতে হবে তৃণমূলে। এর নেতৃত্ব দিতে হবে ৬৭ বছরের অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগকেই।