স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরের টাকাটুকিয়ায় পপি-চামেলীর বাড়িতে হামলাকারী এজহারভুক্ত আসামি শহিদ মিয়া ও সিরাজ মিয়া রবিবার আদালত থেকে জামিন পেয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় উৎকণ্ঠিত পপি-চামেলীর পরিবার। এদিকে, আইনজীবীরা বলেছেন উত্যক্তকারী বখাটেরা বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও মারপিঠের ঘটনার পর থানায় যে মামলা হয়েছে, সেটি দ্রুত বিচার আইনে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে না হয়ে পেনালকোডে হওয়ায় আসামীরা সহজেই জামিন পেয়েছে, অন্যরাও হয়তো জামিনে পাবে। তাতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে আক্রান্তরা।
পপি- চামেলীসহ তাহিরপুরের টাকাটুকিয়া গ্রামের স্কুল কলেজ পড়–য়াদের উত্যেক্ত করে আসছে টুকেরগাঁওয়ের মোক্তার আলীর ছেলে বখাটে কাশেম মিয়া ও পাবেল মিয়া, শহিদ মিয়ার ছেলে লাইট মিয়া ওরফে রুহিত, বিল্লাল মিয়ার ছেলে মুসা মিয়া ও মুক্তার আলীর ছেলে পাবেল মিয়া।
বখাটেপনার জন্য ৬ মাস আগে সামাজিক বিচারে শাস্তিও হয়েছিল তাদের। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে শালিসে অঙ্গিকার করে কাশেম মিয়া, লাইট মিয়া, মুসা মিয়া ও পাবেল মিয়া। শালিসে অভিযুক্তদের কান ধরে উঠ বসও করানো হয়।
এই বিচারের পর আরও ক্ষেপে যায় এই বখাটেরা। তারা নানাভাবে বর্মণ পরিবারের লোকজনের ক্ষতি করতে থাকে। ৬ মাস আগে পপি-চামেলীর দাদা (বাবার বাবা) দেবেন্দ্র বর্মণের ছেলে বাছিন্দ্র বর্মণের ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জালে আগুন দেয়। এরপর খড়ের ঘর জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়। গত বুধবার ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র দল টাকটুকিয়ার বর্মণ বাড়িতে হামলা করে পুরুষ মহিলাদের মারপিট এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় ৮ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ৩ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় পপি-চামেলীর কাকা সত্যেন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে ওই দিনই রাতে ১৩ জনের নামোল্লেখ করে ২৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে দ-বিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায়। মামলা গ্রহণের পরদিন ১৬ এপ্রিল এজাহাভূক্ত ২ আসামীসহ ৩ জনকে আটকও করে পুলিশ। রবিবার এরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছে।
আসামীরা জামিন পাওয়ায় উৎকণ্ঠিত পপি চামেলীর পরিবার।
পপি-চামেলীর কাকা মামলার বাদী সত্যেন্দ্র বর্মণ রোববার বিকালে এ প্রতিবেদককে বললেন, আমার কয়েকসিড়ির কেউ মামলা মোকদ্দমায় জড়ায়নি। বিপদে পড়ে মামলা করেছি। আমরা থানায় যাওয়ার পর ওসি স্যার যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই মামলা করেছি। মামলা দুর্বল কঠিন, আমরা কিছুই জানি না।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ বললেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে দেখেছি তাতে এই মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নিয়ে, পেনাল কোডের অন্য ধারা সংযুক্ত করলে ভালো হত।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে, হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে, এই মামলা পেনাল কোডে না নিয়ে দ্রুত বিচার আইনে নিলে আইনসঙ্গত হতো। মামলাটি দুর্বল হয়েছে, এই কারণে কিছু আসামীর জামিন হয়েছে, অন্যরাও হয়তো জামিন পাবে।’
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, আসামীরা খুবই উচ্ছৃঙ্খল, বাদীর ন্যায় বিচার নিশ্চিতের জন্য দ-বিধির সর্বোচ্চ ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা ছাড়া নারী নির্যাতন আইনে মামলা হয় না। ইভটিজিংয়ের আসলে কোন ধারা নেই, চার্জশীট দেবার সময় প্রয়োজনে ধারা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।


