দেশোন্নয়নে প্রবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন

ছাতকের জাউয়াবাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত গনিপুর গ্রামের প্রায় ৩ শ’ ফুট গ্রামীণ রাস্তা জনৈক প্রবাসীর অর্থায়নে পাকা করার একটি ছোট্ট খবর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের শেষ পৃষ্ঠায় এক কলামে ছাপা হয়েছে। খবরটি ছোট করে প্রকাশ হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম বলে আমরা মনে করি। প্রবাসী অধ্যূষিত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসীদের অর্থায়নে নানা সামাজিক কর্মকা- পরিচালিত হওয়ার খবর আমরা প্রায়সই জানতে পারি। বহু প্রবাসী বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন, অনেকে সামাজিক অনুষ্ঠানাদির জন্য চাঁদা প্রদান করেন। প্রবাসীদের এই সামাজিক কর্মকা-টি এখন চলছে প্রায় ব্যক্তি উদ্যোগে এবং এর বিশাল অংশ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয়িত হচ্ছে। প্রব্সাীদের এই দান-অনুদান যদি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে ব্যয়িত হতো তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তা, কালভার্ট, ছোট সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এমন সব কাজে প্রবাসীদের অর্থ সহায়তা সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ঘটাত বলে আমরা মনে করি। ছাতকের গনিপুরে যে ৩০০ ফুট রাস্তা জনৈক প্রবাসী পাকা করে দিলেন, মাত্রাগত বিবেচনায় হয়তো এটি নগন্য কিন্তু এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের একটি রূপরেখার সন্ধান পাওয়া গেল। এজন্য আমরা ওই প্রবাসীকে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানাই।
আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ইউনিয়ন পরিষদ বহু উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, এর বিপরীতে আসা সরকারি বরাদ্দ বছরের শেষ দিকে আসে, তখন তাড়াহুড়ো করে কিছু কাজ হয় কিছু লুপাট হয়। এই জায়গায় সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি যদি সম্ভাব্য ক্ষেত্রে প্রবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেত তাহলে গ্রামীণ উন্নয়নের গতি আরও তরান্বিত হতো। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ উদ্যোগ নিলে এরকম দাতা প্রবাসী খুঁজে বের করা কঠিন কোন কাজ হত না। এজন্য প্রবাসীদের আগ্রহী করে তুলতে কিছু উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দাতা প্রবাসীদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের অর্থ শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ব্যয়িত হবে, উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকিতে তাদের তদারকির ক্ষমতা দিতে হবে। সমাজ উন্নয়ন একটি সামষ্টিক ধারণা যেখানে অনেকেই যার যার মতো অবদান রাখেন। শুধু সরকারের মুখাপেক্ষী উন্নয়ন ধারণা সামাজিক উদ্যোগকে ব্যাহত করে। সামাজিক উদ্যোগগুলোকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ করা উচিৎ বলে আমরা মনে করি।
এদেশের মানুষ যারা প্রবাসে কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে এখন বিত্তশালী হয়েছেন তাদের রয়েছে অপরিসীম দেশপ্রেম। তারা সবসময় দেশের জন্য কিছু করতে চান। দেশে এসে এই প্রবাসীরা অকাতরে টাকা খরচ করেন। তাঁদের অনেকের টাকা পয়সা খরচ হয় অপরিকল্পিত উপায়ে। প্রবাসীদের এই নাড়ির টানকে দেশোন্নয়নের কাজে লাগানোর দায়িত্ব আমাদের সমাজ নেতাদের। এজন্য প্রবাসীদের উপযুক্ত সম্মানের জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বিদেশে যে উন্নত ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা দেখে অভ্যস্ত সেই পরিবেশ দেশে নিশ্চিত করতে হবে। আর প্রবাসীদের যদি জবাইর মুরগি মনে করে মক্কেল বানানোর অপপ্রয়াস চালানো হয়  (যেটি আখছার ঘটে আমাদের দেশে) তাহলে প্রবাসীদের দেশের প্রতি টান কমতে থাকবে। আমাদের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ এই প্রবাসীদের পাঠানো টাকার উপর প্রতিষ্ঠিত । দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় অবস্থানে রাখতে হলেও প্রবাসীদের দেশমুখী অবস্থানে রাখা একান্ত জরুরি। প্রজন্মক্রমে প্রবাসীদের শিকড়ের টান কমতির দিকে থাকা স্বাভাবিক। ওদেরকে শিকড়ের পরিচয় দিতে হবে এবং এই দায়িত্ব পালন করতে হবে দেশে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদেরকেই।